সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে দুই দেশ একটি ‘নির্দেশিকা নীতি’ বা গাইডলাইন তৈরিতে সম্মত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা হ্রাস এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানো। আলোচনা শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এই অগ্রগতিকে ‘দারুণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, পরমাণু ইস্যুতে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষ একটি মৌলিক রূপরেখা বা নির্দেশিকা নীতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এই সমঝোতার ওপর ভিত্তি করেই আগামীতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে আলোচনার এই অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সকল শর্ত বা দাবি মেনে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ফলে আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে না বসলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে এই নীতিগত সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























