সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনমতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা নির্দিষ্ট একটি মহলের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা ইউটিউবারদের কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘না’ ভোটের প্রবণতা বা নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরপেক্ষতার আবরণে এই গোষ্ঠীটি মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা হিতে বিপরীত হয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একদল ব্যক্তির উত্থান ঘটেছে যারা নিজেদের নিরপেক্ষ বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের কর্মকাণ্ড ও প্রচারণার লক্ষ্য থাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারাকে সুরক্ষা দেওয়া। বিশেষ করে টকশো, কলাম এবং ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে তারা অত্যন্ত কৌশলে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। এই ‘ছদ্মবেশী’ প্রচারণাকে সাধারণ ভোটাররা নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন, যার প্রতিফলন ঘটছে বিভিন্ন ভোটাভুটি বা জনমত জরিপে ‘না’ ভোটের আধিক্যের মাধ্যমে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন কোনো বুদ্ধিজীবী বা সাংবাদিক তার পেশাদারিত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করেন, তখন তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। বর্তমানে ইউটিউব বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে তথাকথিত অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ভুল তথ্য বা একপাক্ষিক বয়ান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষ এই অপকৌশল বুঝতে পেরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে জনসমর্থন আদায়ের পরিবর্তে জনবিচ্ছিন্নতা আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা ও সততার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ যখন সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটিয়ে গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকেন, তখন জনমনে তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়। এই অনাস্থাই মূলত ব্যালট পেপার কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জনমত জরিপগুলোতে ‘না’ ভোটের পাল্লাকে ভারী করে তুলছে। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অনুপস্থিতিতে এই ধরনের ‘পেইড’ প্রচারণাকারীরা জনমতের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























