ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনীতিতে উত্তরাধিকার: পারিবারিক ঐতিহ্যের ব্যাটন যখন উত্তরসূরিদের হাতে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘উত্তরাধিকার’ বিষয়টি দীর্ঘদিনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ—জাতীয় রাজনীতির প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁক পরিবর্তনের নেপথ্যে যেসব পরিবার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আজ রাজনীতির মূলধারায় সক্রিয়। মা-বাবার আদর্শকে পাথেয় করে এবং পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছেন এই তরুণ ও উদীয়মান নেতারা।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক নেতার সন্তানই এখন রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয়। এদের কেউ কেউ বাবার মৃত্যুর পর তার শূন্যস্থান পূরণে হাল ধরেছেন, আবার কেউ কেউ মা-বাবার জীবদ্দশাতেই রাজনীতির পাঠ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটিকে শুধু আভিজাত্য নয়, বরং একটি আদর্শিক দায়বদ্ধতা হিসেবেও দেখেন বিশ্লেষকরা।

জাতীয় রাজনীতিতে এই উত্তরসূরিদের আগমনের প্রক্রিয়াটি বেশ বৈচিত্র্যময়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা শেষে পেশাগত জীবন ছেড়ে তারা সরাসরি নাম লিখিয়েছেন জনসেবার ব্রত নিয়ে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ নেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে উঠেছেন। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কাছেও এসব উত্তরসূরিদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রে বেশি থাকে, কারণ তাদের মধ্যে তারা প্রিয় নেতার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।

তবে এই উত্তরাধিকারের রাজনীতির পথটি সবসময় মসৃণ নয়। পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতিতে আসা নেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জও কম থাকে না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপ এবং নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার নিরন্তর লড়াই তাদের চালিয়ে যেতে হয়। সমালোচকরা অনেক সময় রাজবংশীয় রাজনীতির অভিযোগ তুললেও, সমর্থকদের দাবি—যোগ্যতা ছাড়া কেবল পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা অসম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর। মা-বাবার দেখানো পথে হাঁটলেও, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক কৌশল ও জনকল্যাণমূলক চিন্তা নিয়ে তারা কতটুকু এগিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে এই উত্তরসূরিরা দেশের রাজনীতিকে কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

রাজনীতিতে উত্তরাধিকার: পারিবারিক ঐতিহ্যের ব্যাটন যখন উত্তরসূরিদের হাতে

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘উত্তরাধিকার’ বিষয়টি দীর্ঘদিনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ—জাতীয় রাজনীতির প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁক পরিবর্তনের নেপথ্যে যেসব পরিবার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আজ রাজনীতির মূলধারায় সক্রিয়। মা-বাবার আদর্শকে পাথেয় করে এবং পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছেন এই তরুণ ও উদীয়মান নেতারা।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক নেতার সন্তানই এখন রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয়। এদের কেউ কেউ বাবার মৃত্যুর পর তার শূন্যস্থান পূরণে হাল ধরেছেন, আবার কেউ কেউ মা-বাবার জীবদ্দশাতেই রাজনীতির পাঠ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটিকে শুধু আভিজাত্য নয়, বরং একটি আদর্শিক দায়বদ্ধতা হিসেবেও দেখেন বিশ্লেষকরা।

জাতীয় রাজনীতিতে এই উত্তরসূরিদের আগমনের প্রক্রিয়াটি বেশ বৈচিত্র্যময়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা শেষে পেশাগত জীবন ছেড়ে তারা সরাসরি নাম লিখিয়েছেন জনসেবার ব্রত নিয়ে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ নেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে উঠেছেন। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কাছেও এসব উত্তরসূরিদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রে বেশি থাকে, কারণ তাদের মধ্যে তারা প্রিয় নেতার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।

তবে এই উত্তরাধিকারের রাজনীতির পথটি সবসময় মসৃণ নয়। পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতিতে আসা নেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জও কম থাকে না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপ এবং নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার নিরন্তর লড়াই তাদের চালিয়ে যেতে হয়। সমালোচকরা অনেক সময় রাজবংশীয় রাজনীতির অভিযোগ তুললেও, সমর্থকদের দাবি—যোগ্যতা ছাড়া কেবল পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা অসম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর। মা-বাবার দেখানো পথে হাঁটলেও, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক কৌশল ও জনকল্যাণমূলক চিন্তা নিয়ে তারা কতটুকু এগিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে এই উত্তরসূরিরা দেশের রাজনীতিকে কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।