মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:৩৬ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যস সংকট চরমে

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

এর আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে তিতাস অধিভুক্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।  

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় চুলায় গ্যাস নেই। কোথাও একেবারেই গ্যাস আসছে না, আবার কোথাও খুবই কম চাপে টিমটিম করে জ্বলছে। এতে রান্নাবান্না করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ির বাসিন্দারা। অনেককে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। 

রাজাবাজারের বাসিন্দা মিতু আহমেদ বলেন, “এই এলাকায় গ্যাসের চাপ বরাবর কম থাকে। গতকাল রাত থেকে গ্যাসে একেবারেই নেই। বিদ্যুতের চুলায় রান্না করছি। এই সমস্যার সমধান কী কোনোদিন হবে না?” প্রশ্ন করেন তিনি। 

এদিকে বনশ্রী থেকে নুভা চৌধুরী বলেন, “গ্যাস আছে তবে অবস্থা এত খারাপ যে, একটা ডিমও ভাজি করার উপায় নেই। পানি গরম হতেই আধা ঘণ্টা নেই। সংকট তো দীর্ঘদিনের। এই কারণে সিলিন্ডারও এনে রাখি। কখনও সমস্যা হলে সেটা দিয়ে চালাই। এতে করে একদিন গ্যাসের বিলও দেই আবার সিলিন্ডার খরচও করি। আমরা গ্রাহকরা সব দিক দিয়েই লোকসান গুনে যাচ্ছি।” 

শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, সংকটে পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোও। রাজধানীর কয়েকটি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন স্বাভাবিকভাবে গাড়িতে গ্যাস দিতে পারছে না। এতে করে চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিচ্ছেন। এই কারণে, নগরীতে আজ সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট তৈরি হয়েছে, বেড়েছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। 

সিএনজি চালক করিম বিল্লাহ জানান, আজ সকাল থেকে কয়েকটা স্টেশনে ঘুরলাম। গ্যাস নাই। পরে একটা স্টেশনে গ্যাস পেলে অনেক লম্বা লাইন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর গ্যাস পেলাম। একই অভিযোগ ছিল আরও অনেক চালকের। 

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “পাইপ লাইনে গ্যাস নাই, আমরা কিভাবে পাবো। বেশিরভাগ স্টেশনে প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কিছু জায়গায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতো কম যে, চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।” 

তিনি বলেন, “নতুন সরকারের উচিত ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রথমে ধান খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করা। গ্রাহকরা এজন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” 

গ্যাস সংকটের কারণে ক্ষুদ্র শিল্প ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  

সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে তিতাসের পরিচালক (অপারেশন)  সাইদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ঘাটতি আছে।  আজ দুপুর ১২টায় আমরা চাহিদার তুলনায় ১৩৪০ মিলিয়ন গ্যাস পেয়েছি।” 

তিনি জানান, এলএনজি টার্মিনাল ঠিক হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের লাইন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুই তিনদিন সময় লেগে যেতে পারে। আমরা আশা করছি প্রথম রোজার মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।  

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যস সংকট চরমে

হালনাগাদ সময় : ০৪:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

এর আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে তিতাস অধিভুক্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।  

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় চুলায় গ্যাস নেই। কোথাও একেবারেই গ্যাস আসছে না, আবার কোথাও খুবই কম চাপে টিমটিম করে জ্বলছে। এতে রান্নাবান্না করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ির বাসিন্দারা। অনেককে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। 

রাজাবাজারের বাসিন্দা মিতু আহমেদ বলেন, “এই এলাকায় গ্যাসের চাপ বরাবর কম থাকে। গতকাল রাত থেকে গ্যাসে একেবারেই নেই। বিদ্যুতের চুলায় রান্না করছি। এই সমস্যার সমধান কী কোনোদিন হবে না?” প্রশ্ন করেন তিনি। 

এদিকে বনশ্রী থেকে নুভা চৌধুরী বলেন, “গ্যাস আছে তবে অবস্থা এত খারাপ যে, একটা ডিমও ভাজি করার উপায় নেই। পানি গরম হতেই আধা ঘণ্টা নেই। সংকট তো দীর্ঘদিনের। এই কারণে সিলিন্ডারও এনে রাখি। কখনও সমস্যা হলে সেটা দিয়ে চালাই। এতে করে একদিন গ্যাসের বিলও দেই আবার সিলিন্ডার খরচও করি। আমরা গ্রাহকরা সব দিক দিয়েই লোকসান গুনে যাচ্ছি।” 

শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, সংকটে পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোও। রাজধানীর কয়েকটি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন স্বাভাবিকভাবে গাড়িতে গ্যাস দিতে পারছে না। এতে করে চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিচ্ছেন। এই কারণে, নগরীতে আজ সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট তৈরি হয়েছে, বেড়েছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। 

সিএনজি চালক করিম বিল্লাহ জানান, আজ সকাল থেকে কয়েকটা স্টেশনে ঘুরলাম। গ্যাস নাই। পরে একটা স্টেশনে গ্যাস পেলে অনেক লম্বা লাইন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর গ্যাস পেলাম। একই অভিযোগ ছিল আরও অনেক চালকের। 

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “পাইপ লাইনে গ্যাস নাই, আমরা কিভাবে পাবো। বেশিরভাগ স্টেশনে প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কিছু জায়গায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতো কম যে, চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।” 

তিনি বলেন, “নতুন সরকারের উচিত ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রথমে ধান খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করা। গ্রাহকরা এজন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” 

গ্যাস সংকটের কারণে ক্ষুদ্র শিল্প ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  

সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে তিতাসের পরিচালক (অপারেশন)  সাইদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ঘাটতি আছে।  আজ দুপুর ১২টায় আমরা চাহিদার তুলনায় ১৩৪০ মিলিয়ন গ্যাস পেয়েছি।” 

তিনি জানান, এলএনজি টার্মিনাল ঠিক হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের লাইন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুই তিনদিন সময় লেগে যেতে পারে। আমরা আশা করছি প্রথম রোজার মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।  

Share this news as a Photo Card