ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

রোজা ও অনাবৃষ্টির অজুহাতে লেবুর দামে মাথায় হাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে লেবুর দাম। সরবরাহ সংকট আর অনাবৃষ্টির অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা, তাতে লেবুর দাম দেখে সাধারণ ক্রেতাদের রীতিমতো ‘মাথায় হাত’।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা ও সূত্রাপুরসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। যা গত এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ছোট সাইজে  লেবুর হালি ১০০ টাকা, মাঝারিটা ১২০ টাকা আর বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। 

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী কাদের বলেন, “সামনে রোজা আর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে লেবুর দাম বাড়ছে। সরবরাহ না থাকায় লেবু কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। আর লেবু আনছিও কম। দাম নিয়ে কাস্টমারের সাথে ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক করতে হয়। বৃষ্টি হলে হয়তো দাম কিছুটা কমবে।” 

এসময় লেবু কিনতে যাওয়া ক্রেতা রায়হান পাঁচ টাকা কম দিতে চাইলে এই দোকানি বলেন, “লাভ-ই অইবো ৫ ট্যাকা আপনারে কেমনে কম রাখমু?” এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি হয়।  

ক্রেতা রায়হান বলেন, “এমন অবস্থা হলে কিভাবে হবে? রোজা আসতে পারলোনা, এখনই যদি অবস্থা এমন হয়।” 

নারিন্দা বাজারের এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, “ফলন কম। মোকামে দাম বেশি। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।” সেখানে  লেবু কিনতে আসা মো. সেলিম মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “বাবা রে। লেবুর এতো দাম। রোজার সময় তো আরও দাম বাড়বে। মধ্যবিত্তদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।” 

পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড়ের এলাকায় নিয়মিত লেবু বিক্রি করেন জলিল মিয়া। তবে দাম বাড়ার কারণে কয়েকদিন যাবত লেবু আনছেন না তিনি। তিনি বলেন, “লেবুতে আগুন লাগছে। ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালি। ৫০ টা লেবু কিনতে গেছি। ১০০ টার নিচে বেঁচবে না। এতো লেবু এনে ক্রেতাও পাওয়া যায় না।” 

জব্বার নামে এক ক্রেতা বলেন, “গত ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ি থেকে লেবুর হালি কিনেছি ৩০ টাকা। সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। রোজায় আরও দাম বাড়লে তো সাধারণ জনগণ সমস্যায় পড়ে যাবে। ইফতারে তো লেবুর শরবত লাগেই।”  

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেমিট্যান্স সেবায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি: ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ইসলামী ব্যাংক

রোজা ও অনাবৃষ্টির অজুহাতে লেবুর দামে মাথায় হাত

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে লেবুর দাম। সরবরাহ সংকট আর অনাবৃষ্টির অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা, তাতে লেবুর দাম দেখে সাধারণ ক্রেতাদের রীতিমতো ‘মাথায় হাত’।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা ও সূত্রাপুরসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। যা গত এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ছোট সাইজে  লেবুর হালি ১০০ টাকা, মাঝারিটা ১২০ টাকা আর বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। 

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী কাদের বলেন, “সামনে রোজা আর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে লেবুর দাম বাড়ছে। সরবরাহ না থাকায় লেবু কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। আর লেবু আনছিও কম। দাম নিয়ে কাস্টমারের সাথে ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক করতে হয়। বৃষ্টি হলে হয়তো দাম কিছুটা কমবে।” 

এসময় লেবু কিনতে যাওয়া ক্রেতা রায়হান পাঁচ টাকা কম দিতে চাইলে এই দোকানি বলেন, “লাভ-ই অইবো ৫ ট্যাকা আপনারে কেমনে কম রাখমু?” এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি হয়।  

ক্রেতা রায়হান বলেন, “এমন অবস্থা হলে কিভাবে হবে? রোজা আসতে পারলোনা, এখনই যদি অবস্থা এমন হয়।” 

নারিন্দা বাজারের এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, “ফলন কম। মোকামে দাম বেশি। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।” সেখানে  লেবু কিনতে আসা মো. সেলিম মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “বাবা রে। লেবুর এতো দাম। রোজার সময় তো আরও দাম বাড়বে। মধ্যবিত্তদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।” 

পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড়ের এলাকায় নিয়মিত লেবু বিক্রি করেন জলিল মিয়া। তবে দাম বাড়ার কারণে কয়েকদিন যাবত লেবু আনছেন না তিনি। তিনি বলেন, “লেবুতে আগুন লাগছে। ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালি। ৫০ টা লেবু কিনতে গেছি। ১০০ টার নিচে বেঁচবে না। এতো লেবু এনে ক্রেতাও পাওয়া যায় না।” 

জব্বার নামে এক ক্রেতা বলেন, “গত ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ি থেকে লেবুর হালি কিনেছি ৩০ টাকা। সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। রোজায় আরও দাম বাড়লে তো সাধারণ জনগণ সমস্যায় পড়ে যাবে। ইফতারে তো লেবুর শরবত লাগেই।”