ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

৯২ হাজার ভোটে হেরেও বিএনপির প্রার্থী বলছেন, ফল পাল্টে দিয়েছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের ৬টি আসনেই এবার বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। জেলার সবকটি আসনেই জিতেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এ তিন আসনের ভোট আবার গণনার দাবি তুলেছেন তারা। এমনকি রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ও ঘেরাও করেছেন।

তবে এই তিন আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রংপুর-৪ ও ৬ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী ১১ দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে অল্প ভোটে হেরেছেন। কিন্তু রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরেছেন বিশাল ব্যবধানে। 

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। এ আসনে জয়ী বেলাল ও পরাজিত শামুর ভোটের ব্যবধান ৯২ হাজার ৫৬৬। তিনি ভোট আবার গণনার দাবি করেছেন।

রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু দাবি করেন, ব্যালট পেপারে প্রদত্ত ভোট জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ২০টি করে বেশি গণনা করা হয়েছে। আর ধানের শীর্ষ মার্কার ২০টি করে কম গণনা করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের সব কেন্দ্রে এসব করা হয়েছে।

এই জেলায় আরও দুই আসনে ভোট আবার গণনার দাবি করেছেন বিএনপির আরও দুই প্রার্থী। তারা হলেন- রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ভোট আবার গণনার দাবিতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। তারা ফল কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং জেলা প্রশাসককে দায়ী করেন।

জানা গেছে, রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মাহবুবার রহমান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন এক লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাপা প্রার্থী নুর আলম যাদু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র এক হাজার ২৮৭ ভোট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

৯২ হাজার ভোটে হেরেও বিএনপির প্রার্থী বলছেন, ফল পাল্টে দিয়েছে

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের ৬টি আসনেই এবার বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। জেলার সবকটি আসনেই জিতেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এ তিন আসনের ভোট আবার গণনার দাবি তুলেছেন তারা। এমনকি রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ও ঘেরাও করেছেন।

তবে এই তিন আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রংপুর-৪ ও ৬ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী ১১ দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে অল্প ভোটে হেরেছেন। কিন্তু রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরেছেন বিশাল ব্যবধানে। 

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। এ আসনে জয়ী বেলাল ও পরাজিত শামুর ভোটের ব্যবধান ৯২ হাজার ৫৬৬। তিনি ভোট আবার গণনার দাবি করেছেন।

রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু দাবি করেন, ব্যালট পেপারে প্রদত্ত ভোট জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ২০টি করে বেশি গণনা করা হয়েছে। আর ধানের শীর্ষ মার্কার ২০টি করে কম গণনা করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের সব কেন্দ্রে এসব করা হয়েছে।

এই জেলায় আরও দুই আসনে ভোট আবার গণনার দাবি করেছেন বিএনপির আরও দুই প্রার্থী। তারা হলেন- রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ভোট আবার গণনার দাবিতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। তারা ফল কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং জেলা প্রশাসককে দায়ী করেন।

জানা গেছে, রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মাহবুবার রহমান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন এক লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাপা প্রার্থী নুর আলম যাদু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র এক হাজার ২৮৭ ভোট।