রংপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে পরাজিত পক্ষ এখন ‘উন্মাদের’ মতো আচরণ শুরু করেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হারাগাছের চর চরিয়া আদর্শ গ্রাম কেন্দ্রে তার দুই কর্মীকে মারধর করেছে বিএনপি কর্মীরা। এছাড়া পল্লী-মাড়ী এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা এবং হারাগাছ মডেল কলেজের সামনে তার নির্বাচনী ক্যাম্প ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ আনেন।
পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট উল্লেখ করে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন পরাজয়ের বেদনা ভুলতে তারা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। যদি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ থাকে তবে তা দাখিল করুক, আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।”
গত বৃহস্পতিবার হারাগাছ এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে তিনি একটি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেন। আখতার হোসেন বলেন, “যেখানে প্রার্থীর গাড়ির আগে-পিছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ছিল, সেখানে দুর্বৃত্তরা এসে গাড়ি ভাঙচুর করবে—এটা হাস্যকর। নিজেদের ওপর দায় এড়াতে এবং সহানুভূতি পেতে তারা নিজেরাই এই নাটক মঞ্চস্থ করেছে।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে হারাগাছ পাইকার বাজার এলাকায় তার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে ৪ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া পীরগাছার কদমতলীতে একটি হাফেজি মাদ্রাসা ভাঙচুরের চেষ্টার জন্য তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানকে দায়ী করেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজয়ী এই প্রার্থী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রকার উস্কানি বা হুমকিতে তারা বিচলিত নন। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে তারা সহিংসতার পথ এড়িয়ে চলবেন।
এদিকে, কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদে কাজ করেছি। ভোটের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে এই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, রংপুর-৪ আসনের ১৬৩টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট। ৮ হাজার ৩৩১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আখতার হোসেন।
রিপোর্টারের নাম 
























