ভোর সাড়ে ৫টা। চারপাশ তখনো নিস্তব্ধ, ভোরের আলোও ঠিকমতো ফোটেনি। কিন্তু ১৫ বছর বয়সী কিশোর মাহমুদের চোখে তখন আর ঘুমের রেশ নেই। এক চিলতে পাতলা তোশকে আধো-ঘুমন্ত অবস্থা থেকেই তাকে জেগে উঠতে হয়। গাজার আর লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের মতো তার আশ্রয়ও এখন এক জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের তপ্ত কিংবা শীতল তাঁবু।
বিশ্বের আর দশটা কিশোর যখন এই সময়ে স্কুলব্যাগ গুছিয়ে ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, মাহমুদের রুটিন সেখানে একেবারেই ভিন্ন। তার হাতে বই-খাতার বদলে উঠে আসে একটি পুরনো, ছিঁড়ে যাওয়া চটের বস্তা। খান ইউনুসের ধুলোবালি মাখা রাস্তায় তাকে নামতে হয় জীবনযুদ্ধের এক কঠিন মিশনে। তার কাজ হলো পরিবারের রান্নার জন্য সামান্য কিছু জ্বালানি বা লাকড়ি সংগ্রহ করা।
দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে মাহমুদের কচি হাতে কড়া পড়ে গেছে। শূন্য বস্তাটি কাঁধে নিয়েই সে অনুভব করে আগামীর অসহ্য ভার। ক্লান্ত কণ্ঠে মাহমুদ জানায়, “বস্তাটা এখনো খালি, কিন্তু এখনই আমার কাছে এটি পাহাড়ের মতো ভারী মনে হচ্ছে। পথ চলা শুরু করার আগেই পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।”
মাহমুদের এই করুণ আর্তি কেবল তার একার নয়; এটি আজ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার প্রতিটি শিশুর যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাতা উল্টানোর বয়সে তাদের লড়তে হচ্ছে এক মুঠো অন্ন আর সামান্য উষ্ণতার জন্য। শিক্ষা আর আনন্দময় শৈশব এখন তাদের কাছে এক সুদূর পরাহত স্বপ্ন।
রিপোর্টারের নাম 























