ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েলি কারাগারে ফ্লোটিলা কর্মীদের মারধর ও খাবারের অভাবের অভিযোগ

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর ইসরায়েলি কারাগারে দুর্ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন এবং খাদ্য ও জলের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আদালাহ শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানায়, বহু আটককৃত অধিকারকর্মী কারাগারে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি পাচ্ছেন না, এবং কিছু বন্দি ইসরায়েলি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের শনিবারের প্রতিবেদনেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী সুইডেনের জলবায়ু আন্দোলনকর্মী থুনবার্গকে কঠোর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে গাজাগামী ফ্লোটিলা অভিযানে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ৪২টি নৌযানসহ ৪৫০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করে। এদের মধ্যে ১৩৭ জনকে তুরস্কের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আদালাহ জানিয়েছে, এক বন্দি আইনজীবীকে বলেছেন যে তাকে এবং গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করার পর ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড় করিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট এরসিন চেলিক অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষ থুনবার্গকে লক্ষ্যবস্তু করে নির্যাতন চালায় এবং তাকে ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়। যদিও ইসরায়েলি কারা প্রশাসনের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

আদালাহর আইনজীবীদের কাছে আরও বহু বন্দি অভিযোগ করেছেন, আটক প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের ধাক্কা দেওয়া, মাটিতে ফেলে রাখা, এবং মুষ্টিবদ্ধ আঘাত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ জানান, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত কোনো বিশ্রাম দেওয়া হয়নি।

সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, দূতাবাস কর্মকর্তারা থুনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। থুনবার্গ দূতাবাসকে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার না পাওয়ায় তিনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন।

সুইডিশ দূতাবাসের এক ইমেইলে বলা হয়েছে, থুনবার্গের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছে, যা তিনি ছারপোকা বা বেডবাগের কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্ত মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বন্দিদের সঙ্গে কারারক্ষীদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির কেতজিওত কারাগার পরিদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্লোটিলা সদস্যদের ‘ন্যূনতমেরও ন্যূনতম’ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেন গভির আরও বলেন, “যেমনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এই অধিকারকর্মীরা এখন নিরাপত্তা কারাগারে আছেন। তারা এখানে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের মতোই কঠোর শর্তে রয়েছে।” উল্লেখ্য, বেন গভির অতীতেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কারাগারের আরও কঠোর পরিবেশ চালুর দাবি জানিয়েছিলেন।

এই ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ মানবিক সহায়তা ও গাজার ওপর আরোপিত দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের প্রতিবাদে যাত্রা শুরু করেছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনতে বিএনপির তৎপরতা: না মানলে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলি কারাগারে ফ্লোটিলা কর্মীদের মারধর ও খাবারের অভাবের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর ইসরায়েলি কারাগারে দুর্ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন এবং খাদ্য ও জলের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আদালাহ শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানায়, বহু আটককৃত অধিকারকর্মী কারাগারে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি পাচ্ছেন না, এবং কিছু বন্দি ইসরায়েলি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের শনিবারের প্রতিবেদনেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী সুইডেনের জলবায়ু আন্দোলনকর্মী থুনবার্গকে কঠোর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে গাজাগামী ফ্লোটিলা অভিযানে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ৪২টি নৌযানসহ ৪৫০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করে। এদের মধ্যে ১৩৭ জনকে তুরস্কের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আদালাহ জানিয়েছে, এক বন্দি আইনজীবীকে বলেছেন যে তাকে এবং গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করার পর ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড় করিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট এরসিন চেলিক অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষ থুনবার্গকে লক্ষ্যবস্তু করে নির্যাতন চালায় এবং তাকে ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়। যদিও ইসরায়েলি কারা প্রশাসনের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

আদালাহর আইনজীবীদের কাছে আরও বহু বন্দি অভিযোগ করেছেন, আটক প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের ধাক্কা দেওয়া, মাটিতে ফেলে রাখা, এবং মুষ্টিবদ্ধ আঘাত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ জানান, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত কোনো বিশ্রাম দেওয়া হয়নি।

সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, দূতাবাস কর্মকর্তারা থুনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। থুনবার্গ দূতাবাসকে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার না পাওয়ায় তিনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন।

সুইডিশ দূতাবাসের এক ইমেইলে বলা হয়েছে, থুনবার্গের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছে, যা তিনি ছারপোকা বা বেডবাগের কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্ত মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বন্দিদের সঙ্গে কারারক্ষীদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির কেতজিওত কারাগার পরিদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্লোটিলা সদস্যদের ‘ন্যূনতমেরও ন্যূনতম’ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেন গভির আরও বলেন, “যেমনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এই অধিকারকর্মীরা এখন নিরাপত্তা কারাগারে আছেন। তারা এখানে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের মতোই কঠোর শর্তে রয়েছে।” উল্লেখ্য, বেন গভির অতীতেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কারাগারের আরও কঠোর পরিবেশ চালুর দাবি জানিয়েছিলেন।

এই ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ মানবিক সহায়তা ও গাজার ওপর আরোপিত দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের প্রতিবাদে যাত্রা শুরু করেছিল।