আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর প্রসিকিউটররা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত শুনানির সমাপনী দিনে প্রসিকিউটর জুলিয়ান নিকোলস বলেন, দুতার্তে তার এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে গর্ব করতেন এবং এভাবেই তাকে স্মরণ করা হোক এমনটাই তিনি চাইতেন।
নিকোলস আরও বলেন, “দশকের পর দশক ধরে তিনি নিজ দেশের, ফিলিপাইনের শিশুদের হত্যা করেছেন। দেশের জন্য সব করেছেন বলে তিনি দাবি করলেও, হত্যার কথা তিনি অস্বীকার করেননি।” প্রসিকিউশনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালীন দুতার্তে নিজেই একটি ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনা করতেন, যা তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রেখেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি হাজার হাজার মানুষকে হত্যার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নও করেন।
সপ্তাহব্যাপী চলা এই শুনানিতে তিন বিচারকের একটি প্যানেল প্রসিকিউশন, ডিফেন্স এবং ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। এখন তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারে গড়াবে কিনা।
দুতার্তে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীরা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তিনি নিহতদের স্বজনদের মুখোমুখি হতে চাননি বলেই শুনানিতে আসেননি।
দাভাও সিটির মেয়র এবং পরবর্তীকালে দেশের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন দুতার্তের তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ঘিরে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন ৭৬টি নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উপস্থাপন করেছে, যেগুলোকে তারা হাজার হাজার হত্যার একটি “প্রতীকী অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করেছে যে দুতার্তের সঙ্গে সরাসরি কোনো হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। ভুক্তভোগীদের আইনজীবী গিলবার্ট আন্দ্রেস বলেন, প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তি তাদের কাছে এমন মনে হয়েছে যেন “নিহতদের স্বজনদের মতো তাদেরও আবার হত্যা করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগগুলো বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু করার আহ্বান জানান, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারেন।
শুনানি শেষে বিচারকরা লিখিত রায় ঘোষণার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় পাবেন। তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে দুতার্তের ভাগ্য। তারা সব অভিযোগ বহাল রেখে বিচার শুরু করতে পারেন, কিছু অভিযোগ বাতিল করতে পারেন, অথবা পুরো মামলাই খারিজ করে দিতে পারেন, যার ফলে দুতার্তে মুক্তি পেতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 






















