ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনের মুখে পুলিশি আপ্যায়ন: নীলফামারীতে বিএনপি প্রার্থীর মধ্যাহ্নভোজ ঘিরে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের উত্তপ্ত ময়দানে নীলফামারীতে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে। নীলফামারী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর উদ্যোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, নীলফামারী সদর আধুনিক হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষ হওয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জনসভা শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে এবং নীলফামারী-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের আয়োজনে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জানা গেছে, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো প্রকার উপহার, আপ্যায়ন বা ব্যক্তিগত সুবিধা প্রদান করতে পারে না। বিশেষ করে, নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন আতিথেয়তা প্রদান নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যাদের হাতে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব ন্যস্ত, তারা কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবেন? অনেকের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তবে, এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা এই জল্পনা ও আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় ভোটারদের দাবি, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা এই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এবং কে উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

নির্বাচনের মুখে পুলিশি আপ্যায়ন: নীলফামারীতে বিএনপি প্রার্থীর মধ্যাহ্নভোজ ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের উত্তপ্ত ময়দানে নীলফামারীতে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে। নীলফামারী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর উদ্যোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, নীলফামারী সদর আধুনিক হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষ হওয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জনসভা শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে এবং নীলফামারী-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের আয়োজনে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জানা গেছে, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো প্রকার উপহার, আপ্যায়ন বা ব্যক্তিগত সুবিধা প্রদান করতে পারে না। বিশেষ করে, নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন আতিথেয়তা প্রদান নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যাদের হাতে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব ন্যস্ত, তারা কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবেন? অনেকের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তবে, এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা এই জল্পনা ও আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় ভোটারদের দাবি, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা এই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এবং কে উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।