ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১২ই ফেব্রুয়ারি: জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার দেশবাসীকে একটি দৃষ্টান্তমূলক ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ এবং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা পূরণের ভবিষ্যৎ। ভোটাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য, যার মাধ্যমে তারা কাঙ্ক্ষিত একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে নিজেদের রায় দিতে চান। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দেশের মানুষ আবারও ভোট প্রদানের সুযোগ পাচ্ছে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অনুযায়ী ফল আসেনি বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে; বরং দেশি-বিদেশি মহলের ষড়যন্ত্রে সেই নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে মনে করেন অনেকে। সেই প্রহসনমূলক নির্বাচনের পর থেকে প্রায় সাড়ে পনেরো বছর ধরে দেশবাসী ভোটের নামে এক ধারাবাহিক তামাশা দেখেছে। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরুর একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের আপামর জনগণ একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। যদিও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই স্বপ্ন এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা মানুষের মনে পূর্ণমাত্রায় জাগ্রত রয়েছে। জনগণ চায় এই বিপ্লবের লক্ষ্যগুলো বাস্তবে রূপ নিক। কারণ তারা বিশ্বাস করে, জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ আবার পুরোনো স্বৈরাচারী আবর্তে ফিরে যাবে, যা তারা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। এই বিপ্লব এখনও চলমান এবং এর শিখা নিভে যায়নি। চলমান এই বিপ্লবকে সফল করার পথে জাতি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।

ক্ষমতাচ্যুত সরকার এবং তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা নির্বাচন বানচাল অথবা অন্তত এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রকাশ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকে নস্যাৎ করে দেশকে চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া, যাতে তাদের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন তাদের অশুভ উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে প্রত্যেক দেশপ্রেমিক নাগরিককে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্মরণ রাখতে হবে, যদি কোনো কারণে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হয় এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়, তাহলে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগ, হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়া এবং কোটি কোটি মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বিফল হবে। বাংলাদেশ আবার জুলাই বিপ্লবের পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে। কেবল জুলাই বিপ্লবই নয়, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যর্থ হলে ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার মূল চেতনাও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই, যেকোনো মূল্যে এই নির্বাচন সফল করা অপরিহার্য। বাংলাদেশের সামনে এর কোনো বিকল্প পথ নেই। শুধু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়া বা ভোটগ্রহণই যথেষ্ট নয়, জনগণের প্রদত্ত ভোটের সঠিক প্রতিফলন যদি ফলাফলে নিশ্চিত করা না যায়, তবে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

এবারের নির্বাচন বেশ কিছু কারণে ব্যতিক্রমী গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল দেশের দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। অন্য প্রধান দল বিএনপি অবশ্য নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। স্বাভাবিক হিসাবে, এই নির্বাচনে বিএনপির অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে আকস্মিকভাবেই জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা বিএনপির ক্ষমতা দখলের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আলজাজিরা, বিবিসি, ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক খবরে জামায়াতের এই উত্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের এই আকস্মিক উপস্থিতি নতুন অনেক সমীকরণ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। এর ফলে নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা, যা বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে আগ্রহী প্রতিটি দেশকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় অনেক নেতাকর্মীসহ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তবে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সাজানো কাঠামো প্রায় অক্ষুণ্ণই থেকে যায়। রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে পূর্ববর্তী সরকারের অনুগত কর্মকর্তাদের বহাল রাখা হয়। যদিও কিছু চিহ্নিত কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পালিয়ে যান এবং সরকার পক্ষ থেকে কয়েকজনকে রদবদল করা হয়, এবং কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারও হন, তবুও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির নির্মূলে একটি পূর্ণাঙ্গ শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়নি। গুম, খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিরোধীদের দমন-পীড়নের দায়ে অনেককে বিচারের আওতায় আনা হলেও, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জুলাই বিপ্লবের চেতনা অনুযায়ী জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বারবার দাবি জানানো হলেও তা এখনও পূরণ হয়নি। এছাড়াও, গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণ কতটা সুদৃঢ়, তা নিয়েও অনেক আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার নির্বাচনের পথে অগ্রসর হয়েছে। একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচনের পথে উল্লিখিত বিষয়গুলো বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ভারত প্রকাশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা ভারত থেকে তার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন বর্জন ও নস্যাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগান দিয়ে নৌকা প্রতীক ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসা ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে নির্বাচন আর মাত্র একদিন দূরে থাকায় সেই সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল সংস্থা যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং দেশপ্রেমিক জনগণ যদি ৫ই আগস্টের মতো আবারও মাঠে সক্রিয় থাকে, তবে নির্বাচনের দিন ঘিরে তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে বাধ্য।

তবে অন্য একটি বড় ধরনের আশঙ্কাও বিদ্যমান। ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত লোভের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যেই বড় ধরনের হানাহানিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। জনগণের রায় মেনে না নেওয়ার মানসিকতা থেকে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের জন্ম হতে পারে, যা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

একসময় মানুষের মনে নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন, সারাদেশের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কিনা। বিভিন্ন কারণে এই আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। তবে এই আশঙ্কার মধ্যেও জনগণের একান্ত চাওয়া হলো, সবাই যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচনের ফল যেন ভোটারদের প্রকৃত রায় অনুযায়ী নিশ্চিত হয়।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রধান দুটি দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একাধিক নেতা ২০০৮ সালের মতো ‘পাতানো’ ও ‘নীলনকশার’ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। যদিও সরকারিভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর নেতাদের মুখে এ ধরনের অভিযোগের সুর কিছুটা স্তিমিত হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে এখনও নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে অনেকে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে না পারা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের অব্যাহত ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছেন।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর গত ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে দেশব্যাপী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা অনেককে হতাশ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সেনাবাহিনী মাঠে থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন ঢিলেঢালা, যা অতীতে দেখা যায়নি। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে জাদুর কাঠির মতো সমাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ হ্রাস পায়, মানুষের মনে শান্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসে। ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূর হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে। কিন্তু ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ সহ বারবার বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করার পরও এবার সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সাধারণ জনগণ পূর্বের মতো সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরপর তিনটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মানুষের মনে যে আস্থা ও শান্তি ফিরিয়ে আনে, তার তুলনা মেলা ভার। এতে মানুষের মন থেকে সকল ভয়ভীতি দূর হয়ে যায় এবং নির্বাচন এক আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়। এবারের নির্বাচনেও সেনাবাহিনী একইভাবে অতীতের সেই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা প্রতিটি নাগরিকের। প্রতিটি ভোটার যেন শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার এক গুরুদায়িত্ব আজ সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত। মনে রাখতে হবে, এটি কেবল ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার এক মহান যাত্রা। আগামীর বাংলাদেশের সেই যাত্রায় অসামান্য অবদান রাখার সুযোগ আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামনে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণের সাক্ষী হয়ে থাকবে সেনাবাহিনী। তাই ১২ই ফেব্রুয়ারি সিপাহি-জনতার মেলবন্ধন সৃষ্টির আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী দিন হিসেবে অমর হয়ে থাকুক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর আটক ঘিরে রণক্ষেত্র রায়পুর: পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে আহত ২০, সড়ক অবরোধে ভোগান্তি

১২ই ফেব্রুয়ারি: জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ

আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার দেশবাসীকে একটি দৃষ্টান্তমূলক ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ এবং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা পূরণের ভবিষ্যৎ। ভোটাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য, যার মাধ্যমে তারা কাঙ্ক্ষিত একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে নিজেদের রায় দিতে চান। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দেশের মানুষ আবারও ভোট প্রদানের সুযোগ পাচ্ছে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অনুযায়ী ফল আসেনি বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে; বরং দেশি-বিদেশি মহলের ষড়যন্ত্রে সেই নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে মনে করেন অনেকে। সেই প্রহসনমূলক নির্বাচনের পর থেকে প্রায় সাড়ে পনেরো বছর ধরে দেশবাসী ভোটের নামে এক ধারাবাহিক তামাশা দেখেছে। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরুর একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের আপামর জনগণ একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। যদিও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই স্বপ্ন এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা মানুষের মনে পূর্ণমাত্রায় জাগ্রত রয়েছে। জনগণ চায় এই বিপ্লবের লক্ষ্যগুলো বাস্তবে রূপ নিক। কারণ তারা বিশ্বাস করে, জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ আবার পুরোনো স্বৈরাচারী আবর্তে ফিরে যাবে, যা তারা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। এই বিপ্লব এখনও চলমান এবং এর শিখা নিভে যায়নি। চলমান এই বিপ্লবকে সফল করার পথে জাতি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।

ক্ষমতাচ্যুত সরকার এবং তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা নির্বাচন বানচাল অথবা অন্তত এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রকাশ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকে নস্যাৎ করে দেশকে চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া, যাতে তাদের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন তাদের অশুভ উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে প্রত্যেক দেশপ্রেমিক নাগরিককে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্মরণ রাখতে হবে, যদি কোনো কারণে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হয় এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়, তাহলে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগ, হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়া এবং কোটি কোটি মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বিফল হবে। বাংলাদেশ আবার জুলাই বিপ্লবের পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে। কেবল জুলাই বিপ্লবই নয়, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যর্থ হলে ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার মূল চেতনাও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই, যেকোনো মূল্যে এই নির্বাচন সফল করা অপরিহার্য। বাংলাদেশের সামনে এর কোনো বিকল্প পথ নেই। শুধু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়া বা ভোটগ্রহণই যথেষ্ট নয়, জনগণের প্রদত্ত ভোটের সঠিক প্রতিফলন যদি ফলাফলে নিশ্চিত করা না যায়, তবে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

এবারের নির্বাচন বেশ কিছু কারণে ব্যতিক্রমী গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল দেশের দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। অন্য প্রধান দল বিএনপি অবশ্য নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। স্বাভাবিক হিসাবে, এই নির্বাচনে বিএনপির অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে আকস্মিকভাবেই জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা বিএনপির ক্ষমতা দখলের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আলজাজিরা, বিবিসি, ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক খবরে জামায়াতের এই উত্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের এই আকস্মিক উপস্থিতি নতুন অনেক সমীকরণ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। এর ফলে নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা, যা বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে আগ্রহী প্রতিটি দেশকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় অনেক নেতাকর্মীসহ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তবে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সাজানো কাঠামো প্রায় অক্ষুণ্ণই থেকে যায়। রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে পূর্ববর্তী সরকারের অনুগত কর্মকর্তাদের বহাল রাখা হয়। যদিও কিছু চিহ্নিত কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পালিয়ে যান এবং সরকার পক্ষ থেকে কয়েকজনকে রদবদল করা হয়, এবং কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারও হন, তবুও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির নির্মূলে একটি পূর্ণাঙ্গ শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়নি। গুম, খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিরোধীদের দমন-পীড়নের দায়ে অনেককে বিচারের আওতায় আনা হলেও, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জুলাই বিপ্লবের চেতনা অনুযায়ী জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বারবার দাবি জানানো হলেও তা এখনও পূরণ হয়নি। এছাড়াও, গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণ কতটা সুদৃঢ়, তা নিয়েও অনেক আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার নির্বাচনের পথে অগ্রসর হয়েছে। একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচনের পথে উল্লিখিত বিষয়গুলো বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ভারত প্রকাশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা ভারত থেকে তার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন বর্জন ও নস্যাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগান দিয়ে নৌকা প্রতীক ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসা ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে নির্বাচন আর মাত্র একদিন দূরে থাকায় সেই সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল সংস্থা যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং দেশপ্রেমিক জনগণ যদি ৫ই আগস্টের মতো আবারও মাঠে সক্রিয় থাকে, তবে নির্বাচনের দিন ঘিরে তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে বাধ্য।

তবে অন্য একটি বড় ধরনের আশঙ্কাও বিদ্যমান। ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত লোভের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যেই বড় ধরনের হানাহানিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। জনগণের রায় মেনে না নেওয়ার মানসিকতা থেকে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের জন্ম হতে পারে, যা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

একসময় মানুষের মনে নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন, সারাদেশের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কিনা। বিভিন্ন কারণে এই আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। তবে এই আশঙ্কার মধ্যেও জনগণের একান্ত চাওয়া হলো, সবাই যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচনের ফল যেন ভোটারদের প্রকৃত রায় অনুযায়ী নিশ্চিত হয়।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রধান দুটি দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একাধিক নেতা ২০০৮ সালের মতো ‘পাতানো’ ও ‘নীলনকশার’ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। যদিও সরকারিভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর নেতাদের মুখে এ ধরনের অভিযোগের সুর কিছুটা স্তিমিত হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে এখনও নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে অনেকে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে না পারা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের অব্যাহত ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছেন।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর গত ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে দেশব্যাপী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা অনেককে হতাশ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সেনাবাহিনী মাঠে থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন ঢিলেঢালা, যা অতীতে দেখা যায়নি। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে জাদুর কাঠির মতো সমাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ হ্রাস পায়, মানুষের মনে শান্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসে। ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূর হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে। কিন্তু ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ সহ বারবার বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করার পরও এবার সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সাধারণ জনগণ পূর্বের মতো সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরপর তিনটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মানুষের মনে যে আস্থা ও শান্তি ফিরিয়ে আনে, তার তুলনা মেলা ভার। এতে মানুষের মন থেকে সকল ভয়ভীতি দূর হয়ে যায় এবং নির্বাচন এক আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়। এবারের নির্বাচনেও সেনাবাহিনী একইভাবে অতীতের সেই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা প্রতিটি নাগরিকের। প্রতিটি ভোটার যেন শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার এক গুরুদায়িত্ব আজ সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত। মনে রাখতে হবে, এটি কেবল ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার এক মহান যাত্রা। আগামীর বাংলাদেশের সেই যাত্রায় অসামান্য অবদান রাখার সুযোগ আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামনে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণের সাক্ষী হয়ে থাকবে সেনাবাহিনী। তাই ১২ই ফেব্রুয়ারি সিপাহি-জনতার মেলবন্ধন সৃষ্টির আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী দিন হিসেবে অমর হয়ে থাকুক।