জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতাকে দমনের লক্ষ্যে আরোপিত কারফিউ এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি, এই দুই ব্যক্তি ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছিলেন এবং ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সকল অভিযোগের সপক্ষে তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, এই মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেবেন। এছাড়াও, মামলার সপক্ষে ভিডিও, ডকুমেন্টারি এবং লাইভ এভিডেন্স সহ যাবতীয় প্রাসঙ্গিক দলিল-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি, ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে, সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশন পক্ষ জুলাই বিপ্লবের ঘটনায় এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র এবং সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামীish সশস্ত্র ক্যাডাররা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে রংপুরে আবু সাঈদসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ইমরান হোসেনসহ ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুরুতরভাবে আহত করেছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই এই দুই আসামির প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামীish সশস্ত্র ক্যাডাররা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ঢাকার মিরপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সিফাত হাওলাদারকে হত্যা এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করেছে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আখতারুজ্জামানকে হত্যা এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করার ঘটনায় আসামিরা দায়ী। চতুর্থ অভিযোগে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুর-২ ও মিরপুর-১০ এলাকায় ফারুল হোসেনসহ মোট ১২ জনকে হত্যা এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-২, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, মিরপুর-১৩ জুটপল্লি, মিরপুর-১৪ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আল আমিন হোসেনসহ ১৬ জনকে হত্যা ও অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এই সকল অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ বা যৌথ অপরাধের দায় এবং সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও, আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবেও কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে মোট ২৮৬টি মামলা করিয়েছিলেন, যেখানে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ছাত্র-জনতাকে আসামি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে তিনি ছাত্র-জনতাকে নির্যাতন, দমন ও হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।
অন্যদিকে, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৪ সালের ২২ জুলাই একদল ব্যবসায়ীকে নিয়ে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ছাত্র-জনতাকে দমনে শেখ হাসিনার হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সালমান এফ রহমান হত্যা ও নির্যাতনে শেখ হাসিনাকে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























