ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা: লন্ডনে ফিউচার ইনস্টিটিউটের নীতিনির্ধারণী প্রতিবেদন প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে লন্ডনে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ কর্মকৌশল ও নীতিনির্ধারণী প্রতিবেদন। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারস্থ ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওডিআই) কার্যালয়ে বৃটেনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট’ এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘ভিশন ফর এ বেটার বাংলাদেশ: এ পলিসি রোডম্যাপ ফর এ নিউ, ডিফারেন্ট গভর্মেন্ট’ শীর্ষক তিন শতাধিক পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনকশা তুলে ধরা হয়েছে।

অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা হিসেবে ‘দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও মুসলিম সমাজের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি জানায়, ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের ছয়টি দেশের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ গবেষক ও শিক্ষাবিদ দীর্ঘ শ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃতি ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞ ও ফিউচার ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা পরিষদের সহ-সভাপতি ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক রাইয়ান আজমী। তিনি বলেন, সাধারণত নতুন সরকার গঠনের পর যথাযথ পরিকল্পনা ও নীতিমালার অভাবে সংস্কার কাজ পিছিয়ে যায়, যার ফলে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। এই প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারের প্রতিফলন ঘটাতে এই প্রমাণ-ভিত্তিক রূপরেখাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনটির মূল ভিত্তি হিসেবে পাঁচটি প্রধান প্রতিপাদ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—ন্যায়বিচার ও আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় সমৃদ্ধির রূপরেখা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণ, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির বিকাশ। এই পাঁচটি স্তম্ভের অধীনে ১৭টি সুনির্দিষ্ট খাতে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ, নারী অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (এলএসই) ভিজিটিং প্রফেসর এবং ওডিআই-এর উপ-পরিচালক প্রফেসর হ্যানস পিটার লান্কেস। তিনি এই প্রতিবেদনটিকে একটি বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত রূপকল্প হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ও ই-গভর্নেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি দমনের সম্ভাবনার ওপর তিনি আলোকপাত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ইয়াসিন আকতাই তার বক্তব্যে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য নৈতিক ও আদর্শিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। ফিউচার ইনস্টিটিউটের এই প্রতিবেদনে জনগণের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ায় তিনি এর প্রশংসা করেন।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য এই প্রতিবেদনটি একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। তিনশ দুই পৃষ্ঠার এই বিস্তারিত পরিকল্পনাপত্রটি বর্তমানে সর্বসাধারণের পাঠ ও পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা: লন্ডনে ফিউচার ইনস্টিটিউটের নীতিনির্ধারণী প্রতিবেদন প্রকাশ

আপডেট সময় : ১০:১৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে লন্ডনে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ কর্মকৌশল ও নীতিনির্ধারণী প্রতিবেদন। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারস্থ ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওডিআই) কার্যালয়ে বৃটেনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট’ এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘ভিশন ফর এ বেটার বাংলাদেশ: এ পলিসি রোডম্যাপ ফর এ নিউ, ডিফারেন্ট গভর্মেন্ট’ শীর্ষক তিন শতাধিক পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনকশা তুলে ধরা হয়েছে।

অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা হিসেবে ‘দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও মুসলিম সমাজের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি জানায়, ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের ছয়টি দেশের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ গবেষক ও শিক্ষাবিদ দীর্ঘ শ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃতি ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞ ও ফিউচার ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা পরিষদের সহ-সভাপতি ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক রাইয়ান আজমী। তিনি বলেন, সাধারণত নতুন সরকার গঠনের পর যথাযথ পরিকল্পনা ও নীতিমালার অভাবে সংস্কার কাজ পিছিয়ে যায়, যার ফলে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। এই প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারের প্রতিফলন ঘটাতে এই প্রমাণ-ভিত্তিক রূপরেখাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনটির মূল ভিত্তি হিসেবে পাঁচটি প্রধান প্রতিপাদ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—ন্যায়বিচার ও আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় সমৃদ্ধির রূপরেখা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণ, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির বিকাশ। এই পাঁচটি স্তম্ভের অধীনে ১৭টি সুনির্দিষ্ট খাতে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ, নারী অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (এলএসই) ভিজিটিং প্রফেসর এবং ওডিআই-এর উপ-পরিচালক প্রফেসর হ্যানস পিটার লান্কেস। তিনি এই প্রতিবেদনটিকে একটি বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত রূপকল্প হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ও ই-গভর্নেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি দমনের সম্ভাবনার ওপর তিনি আলোকপাত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ইয়াসিন আকতাই তার বক্তব্যে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য নৈতিক ও আদর্শিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। ফিউচার ইনস্টিটিউটের এই প্রতিবেদনে জনগণের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ায় তিনি এর প্রশংসা করেন।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য এই প্রতিবেদনটি একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। তিনশ দুই পৃষ্ঠার এই বিস্তারিত পরিকল্পনাপত্রটি বর্তমানে সর্বসাধারণের পাঠ ও পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।