ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ভোলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পারিবারিক রাজত্ব, ভবন পরিণত হয়েছে গোয়ালঘরে

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অব্যবস্থাপনার চরম চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৩৬ নম্বর দক্ষিণ দেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন আর শিক্ষার প্রসারে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গোয়ালঘর হিসেবেই পরিচিতি পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি গরু-ছাগলের বিষ্ঠায় একাকার হয়ে থাকায় সেখানে পাঠদানের নূন্যতম পরিবেশও অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চারপাশ এবং ভবনের ভেতরে পশুর মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও সেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। দোতলার কক্ষগুলোতে পশুর অবাধ বিচরণ থাকলেও তিনতলার একটি খোলা জায়গায় কোনোমতে গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নোংরা পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে চরম পারিবারিক আধিপত্যের অভিযোগ। মোট চারজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও বোনও একই স্কুলে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিদ্যালয়টি অনেকটা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পারিবারিক রাজত্ব, ভবন পরিণত হয়েছে গোয়ালঘরে

ভোলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পারিবারিক রাজত্ব, ভবন পরিণত হয়েছে গোয়ালঘরে

আপডেট সময় : ১২:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অব্যবস্থাপনার চরম চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৩৬ নম্বর দক্ষিণ দেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন আর শিক্ষার প্রসারে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গোয়ালঘর হিসেবেই পরিচিতি পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি গরু-ছাগলের বিষ্ঠায় একাকার হয়ে থাকায় সেখানে পাঠদানের নূন্যতম পরিবেশও অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চারপাশ এবং ভবনের ভেতরে পশুর মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও সেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। দোতলার কক্ষগুলোতে পশুর অবাধ বিচরণ থাকলেও তিনতলার একটি খোলা জায়গায় কোনোমতে গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নোংরা পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে চরম পারিবারিক আধিপত্যের অভিযোগ। মোট চারজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও বোনও একই স্কুলে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিদ্যালয়টি অনেকটা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে।