শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ইমেইল ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. রেজওয়ান আহমেদ শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং বর্তমানে কম্পিউটার ও তথ্য কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বিএনপি-পন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর শাবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অধ্যাপক শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ডোমেইনভুক্ত ইমেইল ব্যবহার করে অন্য শিক্ষকদের কাছে নির্বাচনী প্রচারণাপত্র পাঠান। ইউট্যাবের প্যাডে পাঠানো ওই বার্তায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রচারণাপত্রে ‘গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে’ ভোট দেওয়ার অনুরোধের পাশাপাশি কেন ধানের শীষে ভোট দেওয়া প্রয়োজন, তার সপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কম্পিউটার ও তথ্য কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক শাওনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের প্রবেশাধিকার রয়েছে। দাপ্তরিক কাজে সংরক্ষিত এই তথ্যের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোকে বড় ধরনের নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, একাডেমিক প্রয়োজনে সংগৃহীত ইমেইল অ্যাড্রেসগুলো তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৭ সালের আইনের ৫১ (২) ধারা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত পোষণ করতে পারলেও তা প্রচার করতে পারবেন না অথবা নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে পারবেন না। এই আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলীয় প্রচারণা চালানো স্পষ্টতই আচরণবিধির লঙ্ঘন। এর আগে সামান্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি যা করেছেন, তাতে তার ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।”
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাজিক মিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সরাসরি রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বানানো সমীচীন নয়। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট দলের কর্মীর মতো আচরণ করা আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রেজওয়ান আহমেদ শাওন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ইউট্যাবের একটি প্রসপেক্টাস পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে থাকা ইমেইলগুলো ব্যবহার করেছেন। বিষয়টিকে তিনি বড় কোনো বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন না।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম জানান, বিষয়টি এখনও তার দাপ্তরিক নজরে আসেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করে কেউ কিছু করলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নন।”
রিপোর্টারের নাম 






















