জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজয়ীদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি জনগণকে নির্ভয়ে ভোট ও গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে গুজব ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্র এ ধরনের কোনো আচরণ সহ্য করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন কখনোই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না, বরং তা জাতির সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণার পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষও সচেতন থেকেছেন। এই ইতিবাচক পরিবেশ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধেরই ফল।
তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আপনারা এমন এক বাস্তবতায় বড় হয়েছেন যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল, কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল, কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবুও আপনারা আশা ছাড়েননি, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলন, প্রতিবাদ, চিন্তা ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।”
তিনি বিশেষভাবে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের সকল গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই নারীরা শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন নারীরাই। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবেও নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা—এই শব্দগুলোর পেছনে থাকা পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হবার গল্পগুলোও তিনি তুলে ধরেন।
রিপোর্টারের নাম 






















