ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গুজব ও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না রাষ্ট্র, সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্র কোনোভাবেই গুজব বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আপনারা আপনাদের দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিন, যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব না ছড়ায়। রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।” তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না, বরং দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তাদের শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রথমেই গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি—এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।”

বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল—কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল—কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।”

অধ্যাপক ইউনূস নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিশেষ করে আমাদের নারীরা—মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা—এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হওয়ার গল্প।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গুজব ও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না রাষ্ট্র, সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্র কোনোভাবেই গুজব বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আপনারা আপনাদের দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিন, যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব না ছড়ায়। রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।” তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না, বরং দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তাদের শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রথমেই গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি—এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।”

বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল—কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল—কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।”

অধ্যাপক ইউনূস নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিশেষ করে আমাদের নারীরা—মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা—এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হওয়ার গল্প।”