ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভয়কে জয় করে ভোটকেন্দ্রে আসুন, গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়কে বিসর্জন দিয়ে সাহস সঞ্চয় করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই বার্তা দেন।

ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনটিকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করেছে, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সর্বাধিক। এই বিপুল সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।

নির্বাচনের ফলাফলের চেয়েও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করুন।” নির্বাচনের পর সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি তাঁর এই আহ্বানকে অনুরোধ নয়, বরং একটি জোরালো দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।

শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ড. ইউনূস সতর্ক করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংস নির্বাচন কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হয় না, বরং তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনে। যারা জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে, তাদের শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচার সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনগণের মনে সন্দেহ, ভয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা এবং জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো সত্য। তিনি দেশবাসীকে কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করার এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ করেন। বিগত মাসগুলোতে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নির্বাচন বন্ধু হটলাইন ৩৩৩-এ কল করে সঠিক খবর জানার ওপর জোর দেন তিনি।

ভয়ের পরিবর্তে আশা, উদাসীনতার পরিবর্তে দায়িত্ববোধ এবং বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যের শক্তি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করবে যে, এদেশের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করতে সক্ষম। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রতিটি ভোটারের অংশগ্রহণে রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভয়কে জয় করে ভোটকেন্দ্রে আসুন, গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়কে বিসর্জন দিয়ে সাহস সঞ্চয় করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই বার্তা দেন।

ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনটিকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করেছে, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সর্বাধিক। এই বিপুল সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।

নির্বাচনের ফলাফলের চেয়েও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করুন।” নির্বাচনের পর সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি তাঁর এই আহ্বানকে অনুরোধ নয়, বরং একটি জোরালো দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।

শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ড. ইউনূস সতর্ক করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংস নির্বাচন কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হয় না, বরং তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনে। যারা জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে, তাদের শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচার সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনগণের মনে সন্দেহ, ভয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা এবং জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো সত্য। তিনি দেশবাসীকে কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করার এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ করেন। বিগত মাসগুলোতে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নির্বাচন বন্ধু হটলাইন ৩৩৩-এ কল করে সঠিক খবর জানার ওপর জোর দেন তিনি।

ভয়ের পরিবর্তে আশা, উদাসীনতার পরিবর্তে দায়িত্ববোধ এবং বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যের শক্তি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করবে যে, এদেশের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করতে সক্ষম। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রতিটি ভোটারের অংশগ্রহণে রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।