ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষা উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## শিরোনাম: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষা: মানোন্নয়নই সাফল্যের চাবিকাঠি

ভূমিকা:

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার জোর দিয়ে বলেছেন যে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষা কেবল একটি আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র নয়, বরং এটি জাতির মেরুদণ্ড। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলাই নয়, বরং তাদের মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি, সহনশীলতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং একটি উদার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। বর্তমান বিশ্বায়িত ও প্রযুক্তি-নির্ভর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন:

মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক ‘ডেসিমিনেশন সভায়’ অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমের উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কনসালটেশন কমিটির ফাইনাল রিপোর্ট সাবমিশন বিষয়ক’।

শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে শিক্ষা খাতে নীতি সংস্কার, কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির সদস্য, গবেষণা ও লিখন দল এবং দাপ্তরিক ও সচিবালয়িক সহায়তা প্রদানকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের স্বল্প সময়ে একটি জটিল ও বহুমাত্রিক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কমিটির প্রত্যেক সদস্য তাদের অসাধারণ দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অল্প সময়ে কাজটি সম্পন্ন হবে এমন প্রত্যাশা শুরুতে খুব দৃঢ় ছিল না, তাই এই অর্জনকে তিনি বিশেষভাবে আনন্দের ও গর্বের বলে অভিহিত করেন।

অধ্যাপক ড. সি আর আবরার আরও বলেন যে, প্রশাসনিক কাজের চাপের মধ্যেও কমিটি শিক্ষা খাতের মূল সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। তারা গ্রাসরুট পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সম্পৃক্ততা তৈরি করেছে। শিক্ষক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে, সেগুলো বাস্তব ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় চাহিদা, দেশীয় মেধা ও দেশীয় শ্রমের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা আন্তর্জাতিক কনসালটেন্সির ওপর নির্ভর না করে দেশের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে এই কাজটি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের কাজের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচেতনভাবেই সেই পথ পরিহার করেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে প্রণীত নীতিগত রূপরেখাকে একটি “লিভিং ডকুমেন্ট” হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়। আলোচনার ভিত্তিতে এই নথি আরও সমৃদ্ধ ও পরিমার্জিত করা হবে এবং অংশীজনদের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর এটি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্টরা যাতে তাদের মতামত ও প্রস্তাব জমা দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।

বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন যে, ভবিষ্যতে সরকার ও নীতিনির্ধারকরা এই রূপরেখার আলোকে একটি শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা শিক্ষা খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে শুধু সম্পদ বরাদ্দ নয়, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কমিটির আহ্বায়ক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কেবল পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র নয়, এটি কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের এক সংবেদনশীল সময়। তাই এই স্তরে বৈষম্য নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন – মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ, সাংবাদিক মো. মুসা মিয়া, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান এবং আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক অধিশাখার যুগ্মসচিব তরফদার মো. আক্তার জামীল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধার সাঘাটায় মাদক সেবনকালে কুখ্যাত জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার, ৬ মাসের কারাদণ্ড

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## শিরোনাম: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষা: মানোন্নয়নই সাফল্যের চাবিকাঠি

ভূমিকা:

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার জোর দিয়ে বলেছেন যে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষা কেবল একটি আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র নয়, বরং এটি জাতির মেরুদণ্ড। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলাই নয়, বরং তাদের মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি, সহনশীলতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং একটি উদার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। বর্তমান বিশ্বায়িত ও প্রযুক্তি-নির্ভর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন:

মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক ‘ডেসিমিনেশন সভায়’ অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমের উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কনসালটেশন কমিটির ফাইনাল রিপোর্ট সাবমিশন বিষয়ক’।

শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে শিক্ষা খাতে নীতি সংস্কার, কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির সদস্য, গবেষণা ও লিখন দল এবং দাপ্তরিক ও সচিবালয়িক সহায়তা প্রদানকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের স্বল্প সময়ে একটি জটিল ও বহুমাত্রিক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কমিটির প্রত্যেক সদস্য তাদের অসাধারণ দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অল্প সময়ে কাজটি সম্পন্ন হবে এমন প্রত্যাশা শুরুতে খুব দৃঢ় ছিল না, তাই এই অর্জনকে তিনি বিশেষভাবে আনন্দের ও গর্বের বলে অভিহিত করেন।

অধ্যাপক ড. সি আর আবরার আরও বলেন যে, প্রশাসনিক কাজের চাপের মধ্যেও কমিটি শিক্ষা খাতের মূল সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। তারা গ্রাসরুট পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সম্পৃক্ততা তৈরি করেছে। শিক্ষক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে, সেগুলো বাস্তব ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় চাহিদা, দেশীয় মেধা ও দেশীয় শ্রমের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা আন্তর্জাতিক কনসালটেন্সির ওপর নির্ভর না করে দেশের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে এই কাজটি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের কাজের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচেতনভাবেই সেই পথ পরিহার করেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে প্রণীত নীতিগত রূপরেখাকে একটি “লিভিং ডকুমেন্ট” হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়। আলোচনার ভিত্তিতে এই নথি আরও সমৃদ্ধ ও পরিমার্জিত করা হবে এবং অংশীজনদের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর এটি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্টরা যাতে তাদের মতামত ও প্রস্তাব জমা দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।

বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন যে, ভবিষ্যতে সরকার ও নীতিনির্ধারকরা এই রূপরেখার আলোকে একটি শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা শিক্ষা খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে শুধু সম্পদ বরাদ্দ নয়, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কমিটির আহ্বায়ক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কেবল পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র নয়, এটি কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের এক সংবেদনশীল সময়। তাই এই স্তরে বৈষম্য নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন – মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ, সাংবাদিক মো. মুসা মিয়া, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান এবং আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক অধিশাখার যুগ্মসচিব তরফদার মো. আক্তার জামীল।