ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ: অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শিশুদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতা শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, এমন তথ্য উঠে এসেছে জাপানের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়। ২৩ হাজারেরও বেশি মা ও শিশুর উপর পরিচালিত এই গবেষণাটি মাতৃকালীন মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিশুর বিকাশের মধ্যে একটি গভীর সংযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, গর্ভাবস্থায় মায়ের তীব্র মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতা শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফলকে আরও শক্তিশালী করতে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের উপর কিছু জৈবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এই পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করেছে যে, মায়ের মানসিক চাপ শিশুর বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অটিজমের ঝুঁকির ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যদিও সাধারণত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ বেশি দেখা যায়, তবে মায়ের বিষণ্ণতার প্রভাব মেয়ে শিশুদের উপর বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেসব মেয়ে শিশু মাতৃকালীন বিষণ্ণতার শিকার হয়েছে, তাদের জন্মের সময় ওজন কম হওয়া এবং মায়ের সঙ্গে তাদের মানসিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ছেলেদের ক্ষেত্রে মায়ের মানসিক অবস্থা নির্বিশেষে অটিজমের লক্ষণগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রকট ছিল।

গবেষকরা এই ঝুঁকির পেছনে অক্সিটোসিন হরমোনের ভূমিকাকে চিহ্নিত করেছেন। অক্সিটোসিন হরমোনটি মূলত সামাজিক আচরণ এবং মা-শিশুর মধ্যে আত্মিক বন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ের মানসিক চাপের কারণে এই হরমোনের মাত্রায় বিঘ্ন ঘটলে তা শিশুর সামাজিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে অটিজমের কারণ হতে পারে।

এছাড়াও, ১৪০,০০০ গর্ভবতী নারীর উপর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিষণ্ণতা নিরোধক ওষুধ সেবন করলে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

গবেষকরা এই বিষয়টির উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মদানের পর নিয়মিতভাবে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে মায়েদের মানসিক সমস্যাগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা প্রদান করা গেলে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এই গবেষণার ফলাফল মেয়ে শিশুদের মধ্যে অটিজম শনাক্তকরণের প্রচলিত পদ্ধতি এবং গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধার সাঘাটায় মাদক সেবনকালে কুখ্যাত জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার, ৬ মাসের কারাদণ্ড

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ: অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শিশুদের

আপডেট সময় : ০৭:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতা শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, এমন তথ্য উঠে এসেছে জাপানের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়। ২৩ হাজারেরও বেশি মা ও শিশুর উপর পরিচালিত এই গবেষণাটি মাতৃকালীন মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিশুর বিকাশের মধ্যে একটি গভীর সংযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, গর্ভাবস্থায় মায়ের তীব্র মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতা শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফলকে আরও শক্তিশালী করতে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের উপর কিছু জৈবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এই পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করেছে যে, মায়ের মানসিক চাপ শিশুর বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অটিজমের ঝুঁকির ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যদিও সাধারণত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ বেশি দেখা যায়, তবে মায়ের বিষণ্ণতার প্রভাব মেয়ে শিশুদের উপর বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেসব মেয়ে শিশু মাতৃকালীন বিষণ্ণতার শিকার হয়েছে, তাদের জন্মের সময় ওজন কম হওয়া এবং মায়ের সঙ্গে তাদের মানসিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ছেলেদের ক্ষেত্রে মায়ের মানসিক অবস্থা নির্বিশেষে অটিজমের লক্ষণগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রকট ছিল।

গবেষকরা এই ঝুঁকির পেছনে অক্সিটোসিন হরমোনের ভূমিকাকে চিহ্নিত করেছেন। অক্সিটোসিন হরমোনটি মূলত সামাজিক আচরণ এবং মা-শিশুর মধ্যে আত্মিক বন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ের মানসিক চাপের কারণে এই হরমোনের মাত্রায় বিঘ্ন ঘটলে তা শিশুর সামাজিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে অটিজমের কারণ হতে পারে।

এছাড়াও, ১৪০,০০০ গর্ভবতী নারীর উপর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিষণ্ণতা নিরোধক ওষুধ সেবন করলে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

গবেষকরা এই বিষয়টির উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মদানের পর নিয়মিতভাবে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে মায়েদের মানসিক সমস্যাগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা প্রদান করা গেলে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এই গবেষণার ফলাফল মেয়ে শিশুদের মধ্যে অটিজম শনাক্তকরণের প্রচলিত পদ্ধতি এবং গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেছে।