রাজধানীর উত্তরায় ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি শফিকুর রহমানকে ৫ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় জড়িত অন্য দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে ৫ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এর আগে, আসামিদের কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরলে বিবাদী পক্ষ জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে শফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। গত ২ নভেম্বর তিনি শেষবারের মতো মেয়ের সাথে দেখা করেন। এরপর থেকে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী বিভিন্ন অজুহাতে তাকে আর মেয়ের সাথে দেখা করতে দেননি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে শিশুটি অসুস্থ বলে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। বাবা গিয়ে দেখেন মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং সে যন্ত্রণায় ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না।
পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায়, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে আসামিরা তাকে তুচ্ছ কারণে নিয়মিত মারধর করতেন। এমনকি অত্যন্ত নির্মমভাবে গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গত ২ ফেব্রুয়ারি এই দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























