ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ: সংবাদ সংগ্রহে বাধার প্রতিবাদে এমআরএ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। সংগঠনটি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এমআরএ জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গৃহীত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী—প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দিষ্ট সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নির্দেশনার ফলে মাল্টিমিডিয়া ও মোবাইল সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রের ৮০০ গজের মধ্যে প্রবেশের সুযোগ হারাবেন, যা কার্যত তাদের সংবাদ সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করে দেবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সংবাদ প্রচারেই বাধা নয়, বরং এটি সংবিধান স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থি। এমআরএর সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, “মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সাথে তাৎক্ষণিক তথ্য দেশবাসীকে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে নির্বাচনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, “মোবাইল ফোনই একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকের প্রধান কর্ম সরঞ্জাম। এই যন্ত্রটি ছাড়া তাদের পক্ষে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় অন্তরায়।”

বিবৃতিতে এমআরএ অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনসহ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ: সংবাদ সংগ্রহে বাধার প্রতিবাদে এমআরএ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। সংগঠনটি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এমআরএ জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গৃহীত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী—প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দিষ্ট সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নির্দেশনার ফলে মাল্টিমিডিয়া ও মোবাইল সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রের ৮০০ গজের মধ্যে প্রবেশের সুযোগ হারাবেন, যা কার্যত তাদের সংবাদ সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করে দেবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সংবাদ প্রচারেই বাধা নয়, বরং এটি সংবিধান স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থি। এমআরএর সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, “মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সাথে তাৎক্ষণিক তথ্য দেশবাসীকে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে নির্বাচনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, “মোবাইল ফোনই একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকের প্রধান কর্ম সরঞ্জাম। এই যন্ত্রটি ছাড়া তাদের পক্ষে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় অন্তরায়।”

বিবৃতিতে এমআরএ অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনসহ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।