ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

র‌্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তি এবং বাহিনী দুটির সংস্কারের তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া র‌্যাব ও ডিজিএফআই (মহাপরিচালক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা) অবিলম্বে বিলুপ্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই দুটি সংস্থা তাদের কার্যকারিতা ও নৈতিকতা হারিয়েছে এবং এদের সংস্কার বা বিলুপ্তি জরুরি।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, র‌্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে র‌্যাব থেকে সামরিক সদস্যদের ফিরিয়ে এনে তাদের নিজ নিজ বাহিনীতে পুনর্বহাল করা উচিত। তিনি ডিজিএফআই-এর বিলুপ্তির পক্ষেও মত দেন, কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি ‘আয়নাঘর’-এর মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দিয়েছে এবং এর টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

নিজের দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেওয়া হতো যে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিদ্রোহের শামিল। কিন্তু তার উত্তর ছিল একটাই – পরকালে আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী থেকে র‌্যাবে অফিসার পোস্টিং বন্ধ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অফিসার নিয়োগের জন্য চাপ পেতেন। এমনকি চট্টগ্রামের রেডিসন হোটেল উদ্বোধনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে র‌্যাবের জন্য অফিসার চেয়েছিলেন। অফিসার স্বল্পতার অজুহাতে তিনি সেই অনুরোধ রাখতে পারেননি এবং অবসরের আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে তার দায়িত্বের সময়টা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা তাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সেই অপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না, বরং সেনাবাহিনীর গৌরবকেই সমুন্নত রাখতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে এবং এই আত্মশুদ্ধির সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয়। তার মতে, এটি সেনাবাহিনীকে গৌরবের শিখরে আসীন করবে এবং জাতি জানবে যে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। এর ফলে সেনাবাহিনীর গৌরব ও সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্মে যাওয়ার প্রবণতাও দূর হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারিদের হামলা: ডিবি সদস্যসহ আহত ৭, নগদ ৪৬ লাখ টাকাসহ আটক ১৫

র‌্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তি এবং বাহিনী দুটির সংস্কারের তাগিদ

আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া র‌্যাব ও ডিজিএফআই (মহাপরিচালক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা) অবিলম্বে বিলুপ্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই দুটি সংস্থা তাদের কার্যকারিতা ও নৈতিকতা হারিয়েছে এবং এদের সংস্কার বা বিলুপ্তি জরুরি।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, র‌্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে র‌্যাব থেকে সামরিক সদস্যদের ফিরিয়ে এনে তাদের নিজ নিজ বাহিনীতে পুনর্বহাল করা উচিত। তিনি ডিজিএফআই-এর বিলুপ্তির পক্ষেও মত দেন, কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি ‘আয়নাঘর’-এর মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দিয়েছে এবং এর টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

নিজের দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেওয়া হতো যে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিদ্রোহের শামিল। কিন্তু তার উত্তর ছিল একটাই – পরকালে আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী থেকে র‌্যাবে অফিসার পোস্টিং বন্ধ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অফিসার নিয়োগের জন্য চাপ পেতেন। এমনকি চট্টগ্রামের রেডিসন হোটেল উদ্বোধনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে র‌্যাবের জন্য অফিসার চেয়েছিলেন। অফিসার স্বল্পতার অজুহাতে তিনি সেই অনুরোধ রাখতে পারেননি এবং অবসরের আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে তার দায়িত্বের সময়টা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা তাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সেই অপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না, বরং সেনাবাহিনীর গৌরবকেই সমুন্নত রাখতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে এবং এই আত্মশুদ্ধির সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয়। তার মতে, এটি সেনাবাহিনীকে গৌরবের শিখরে আসীন করবে এবং জাতি জানবে যে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। এর ফলে সেনাবাহিনীর গৌরব ও সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্মে যাওয়ার প্রবণতাও দূর হবে।