ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

নারী ভোটারের পরিচয় যাচাই: ধর্মীয় অনুভূতি ও পর্দার সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নির্দেশনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া ভোটার ঠেকাতে নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিচয় শনাক্তকরণের স্বার্থে নারী ভোটারকে অবশ্যই মুখ দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে ধর্মীয় রীতি মেনে যারা পর্দা করেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পর্দানশিন নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা যাবে না; বরং মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক কেন? নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা থাকবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, ভোটারের চেহারার সঙ্গে তালিকার ছবির মিল পাওয়া গেলেই কেবল ব্যালট পেপার সরবরাহ করা যাবে। এবারের নির্বাচনে ইভিএম (আঙুলের ছাপ) ব্যবস্থা না থাকায় চেহারা ও ছবি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

পর্দানশিন নারীদের জন্য ব্যবস্থা: ইসি সূত্র ও নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে:

  • নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি: প্রতিটি মহিলা বুথে পর্যাপ্ত নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োজিত থাকবেন।
  • মর্যাদা রক্ষা: কোনো নারী যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলতে অস্বস্তি বোধ করেন, তবে তাঁকে আলাদা স্থানে বা নারী কর্মকর্তার সামনে নিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে।
  • ভোট না দেওয়ার অধিকার: পরিচয় যাচাইয়ে কেউ যদি একেবারেই মুখ দেখাতে রাজি না হন, তবে তাঁকে ব্যালট দেওয়া হবে না। তবে এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা জোর-জবরদস্তি করার সুযোগ নেই।

আলেম ও আইন বিশেষজ্ঞদের মত: ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী জানিয়েছেন, পরিচয় নিশ্চিতের প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামি শরীয়াহ মতে জায়েজ। তবে যেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাইয়ের বিকল্প আছে, সেটিই সর্বোত্তম। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন উল্লেখ করেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা হজের ছবির মতো ভোটের ক্ষেত্রেও পরিচয় শনাক্তকরণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এটি কোনোভাবেই নাগরিকের অসম্মান নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য জরুরি।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নারী ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত নারী কর্মী নিয়োগের ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

নারী ভোটারের পরিচয় যাচাই: ধর্মীয় অনুভূতি ও পর্দার সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া ভোটার ঠেকাতে নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিচয় শনাক্তকরণের স্বার্থে নারী ভোটারকে অবশ্যই মুখ দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে ধর্মীয় রীতি মেনে যারা পর্দা করেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পর্দানশিন নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা যাবে না; বরং মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক কেন? নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা থাকবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, ভোটারের চেহারার সঙ্গে তালিকার ছবির মিল পাওয়া গেলেই কেবল ব্যালট পেপার সরবরাহ করা যাবে। এবারের নির্বাচনে ইভিএম (আঙুলের ছাপ) ব্যবস্থা না থাকায় চেহারা ও ছবি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

পর্দানশিন নারীদের জন্য ব্যবস্থা: ইসি সূত্র ও নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে:

  • নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি: প্রতিটি মহিলা বুথে পর্যাপ্ত নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োজিত থাকবেন।
  • মর্যাদা রক্ষা: কোনো নারী যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলতে অস্বস্তি বোধ করেন, তবে তাঁকে আলাদা স্থানে বা নারী কর্মকর্তার সামনে নিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে।
  • ভোট না দেওয়ার অধিকার: পরিচয় যাচাইয়ে কেউ যদি একেবারেই মুখ দেখাতে রাজি না হন, তবে তাঁকে ব্যালট দেওয়া হবে না। তবে এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা জোর-জবরদস্তি করার সুযোগ নেই।

আলেম ও আইন বিশেষজ্ঞদের মত: ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী জানিয়েছেন, পরিচয় নিশ্চিতের প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামি শরীয়াহ মতে জায়েজ। তবে যেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাইয়ের বিকল্প আছে, সেটিই সর্বোত্তম। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন উল্লেখ করেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা হজের ছবির মতো ভোটের ক্ষেত্রেও পরিচয় শনাক্তকরণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এটি কোনোভাবেই নাগরিকের অসম্মান নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য জরুরি।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নারী ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত নারী কর্মী নিয়োগের ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।