ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

১৮ বছর পর বাংলাদেশে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় বহর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাংলাদেশে বড় পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশাল বহর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশ এবং ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তত ৩৬৪ জন প্রতিনিধি আসন্ন ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছেন।

সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনের একটি শক্তিশালী মিশন (EUEOM) মাঠে কাজ করবে। এর মধ্যে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সরাসরি নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে যাবেন। মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আটজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কোন দেশ ও সংস্থা থেকে কতজন?

এবারের নির্বাচনে ইইউ-এর পর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষক দলগুলো হলো:

  • আনফ্রেল (এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন): ২৮ জন।
  • আইআরআই (ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট): ১৯ জন প্রতিনিধি।
  • কমনওয়েলথ: ১৩ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল (ইতিমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন)।
  • তুরস্ক: ৬ জন পার্লামেন্ট সদস্যসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
  • এছাড়াও চীন, জাপান, ইরান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ মোট ১৯টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ভারতসহ আরও ৪টি দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।

প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, নির্বাচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁরা একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন এবং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। এর প্রায় দুই মাস পর একটি চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। বিগত তিন নির্বাচনে আসা পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা ও মান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে বড় দলগুলোর উপস্থিতি ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে আশা করছে সরকার।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

১৮ বছর পর বাংলাদেশে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় বহর

আপডেট সময় : ০১:৩২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাংলাদেশে বড় পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশাল বহর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশ এবং ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তত ৩৬৪ জন প্রতিনিধি আসন্ন ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছেন।

সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনের একটি শক্তিশালী মিশন (EUEOM) মাঠে কাজ করবে। এর মধ্যে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সরাসরি নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে যাবেন। মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আটজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কোন দেশ ও সংস্থা থেকে কতজন?

এবারের নির্বাচনে ইইউ-এর পর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষক দলগুলো হলো:

  • আনফ্রেল (এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন): ২৮ জন।
  • আইআরআই (ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট): ১৯ জন প্রতিনিধি।
  • কমনওয়েলথ: ১৩ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল (ইতিমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন)।
  • তুরস্ক: ৬ জন পার্লামেন্ট সদস্যসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
  • এছাড়াও চীন, জাপান, ইরান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ মোট ১৯টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ভারতসহ আরও ৪টি দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।

প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, নির্বাচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁরা একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন এবং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। এর প্রায় দুই মাস পর একটি চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। বিগত তিন নির্বাচনে আসা পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা ও মান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে বড় দলগুলোর উপস্থিতি ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে আশা করছে সরকার।