ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র ৪ দিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী এবং দলিতসহ সকল প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ২৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ ও দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত জেলাগুলো থেকে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হুমকি, সহিংসতার আশঙ্কা এবং ভয়ভীতি ছড়ানোর খবর তত বেশি আসছে। অভিযোগ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু মহল ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং আদিবাসীদের বেছে নিয়ে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তাঁরা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন। এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে উত্থাপিত প্রধান দাবি ও সুপারিশসমূহ:
বিবৃতিতে সরকারের কাছে বেশ কিছু জরুরি দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল’কে অবিলম্বে আরও সক্রিয় করা এবং জেলা পর্যায়ে অনুরূপ কার্যকর সেল গঠন করা। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর প্রতিটি জেলা ও উপজেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নাগরিকরা আরও দাবি করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার বা পক্ষপাতমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হন, তবে তা দেখা মাত্রই নির্বাচন কমিশন এবং সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন নয়, বরং নির্বাচনের পরেও যেন কোনো সংখ্যালঘু, আদিবাসী বা নারী সহিংসতার শিকার না হন এবং তাঁদের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয়, তার পূর্ণ নিশ্চয়তা ও জনমনে আস্থা সৃষ্টির ব্যবস্থা এখন থেকেই নিতে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:
এই গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে সই করেছেন মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। এছাড়া বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, শাহীন আনাম, শামসুল হুদা, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (বেলার প্রধান নির্বাহী), অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, মনিন্দ্র কুমার নাথ এবং কাজল দেবনাথসহ আরও অনেকে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কোনো মহলের রক্তচক্ষু বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে নিজ পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরিতে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
রিপোর্টারের নাম 























