আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব এক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে এক হাজার ড্রোন ব্যবহার করে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মূলত নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধ, দুর্গম অঞ্চলগুলোতে নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে ফেনী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই ড্রোনগুলোর মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমান বাহিনীর কারিগরি সহায়তায় এই ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোনগুলো উপগ্রহের মতোই কাজ করবে এবং সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কক্ষে রিয়েল-টাইম তথ্য ও ভিডিও প্রেরণ করবে। এর ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা নাশকতার পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ে ২১টি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় থাকবে। এদের মধ্যে ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব এবং বিজিবি উল্লেখযোগ্য। ড্রোনের মাধ্যমে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন বা গোপন তৎপরতা সনাক্ত হলে, এসব বাহিনী দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য একটি বিশেষায়িত ‘ই-মনিটরিং’ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড় ও চরাঞ্চলে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইভাবে, কোনো সন্ত্রাসী বা নাশকতার চেষ্টা সনাক্ত হলে, ড্রোনগুলো দ্রুততম সময়ে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে অবহিত করবে, যাতে তারা দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে রোহিঙ্গা ভোটার বা বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে বিশেষ স্কোয়াড কাজ করবে। ড্রোন থেকে প্রাপ্ত ভিডিও এবং তথ্য নির্বাচন কমিশনের আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেছেন, “আমরা নির্বাচনের মাঠ পুরোপুরি স্বচ্ছ রাখতে চাই। পাহাড় কিংবা সীমান্ত, যেকোনো প্রান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমাদের ড্রোন তা সেকেন্ডের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবে এবং তৎক্ষণাৎ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এক হাজার ড্রোনের ব্যবহার সাধারণ ভোটারদের মনে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করবে এবং সামগ্রিকভাবে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 























