ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে নেকাবধারী নারী ভোটার: পরিচয় নিশ্চিতে মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক, থাকছে নারী কর্মকর্তার সুযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পরিচয় নিশ্চিত করতে নেকাবধারী নারী ভোটারদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভুয়া ভোটার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে পর্দানশীন নারীদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে নারী পোলিং অফিসার ও আনসার সদস্যরা পরিচয় যাচাইয়ের কাজটি করবেন।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারার মিল করা ভোট পরিচালনা বিধির বাধ্যতামূলক অংশ। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, “কেউ যদি মুখ না দেখান, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও জানান, ভোটের স্বচ্ছতা ও ভুয়া ভোট রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে ব্যালট পেপার দিতে হবে।

তবে পর্দানশীন নারীদের বিষয়টি কমিশন বিশেষভাবে বিবেচনা করছে। ইসি সূত্র জানায়, পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা হবে না। নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলতে না চান, তাহলে মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। নারী ভোটারের নারীর কাছে মুখ খুললে পর্দা ভঙ্গ হবে না বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। ইসিসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কোনো নারী যদি মহিলা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, সেক্ষেত্রে তাকে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ভোট না দিলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। ফলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তাই এবার ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে চেহারা ও ছবি মিলিয়েই।

আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী চিন্তাবিদরাও ইসির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে মুখ দেখানো আইন ও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা আছে, সেখানে নারীর পর্দা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের ওপরই বর্তায়। ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামে জায়েজ। তবে যেখানে বিকল্প আছে— সেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই—সেটিই গ্রহণ করা উত্তম।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকেন এবং কোনো নারী মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তার জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নির্বাচন কর্মকর্তার আইনগত দায়িত্ব। তবে আরপিও এবং ভোট পরিচালনা বিধিমালায় ভোটারের মর্যাদা, সম্মান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টিও ইসি আমলে নিচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরপিওতে সরাসরি ‘পর্দা’ শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও নারী ভোটারের সম্মানহানি বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কোনো আচরণ আইনসম্মত নয়। আইনজীবী ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন বলেন, “মুখ না দেখালে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া ভোটার বলা যাবে না। তবে ভোট দিতে চাইলে পরিচয় যাচাই মানতেই হবে। কারণ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এটি শুধু আইনগত নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থেও জরুরি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

ভোটকেন্দ্রে নেকাবধারী নারী ভোটার: পরিচয় নিশ্চিতে মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক, থাকছে নারী কর্মকর্তার সুযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পরিচয় নিশ্চিত করতে নেকাবধারী নারী ভোটারদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভুয়া ভোটার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে পর্দানশীন নারীদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে নারী পোলিং অফিসার ও আনসার সদস্যরা পরিচয় যাচাইয়ের কাজটি করবেন।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারার মিল করা ভোট পরিচালনা বিধির বাধ্যতামূলক অংশ। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, “কেউ যদি মুখ না দেখান, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও জানান, ভোটের স্বচ্ছতা ও ভুয়া ভোট রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে ব্যালট পেপার দিতে হবে।

তবে পর্দানশীন নারীদের বিষয়টি কমিশন বিশেষভাবে বিবেচনা করছে। ইসি সূত্র জানায়, পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা হবে না। নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলতে না চান, তাহলে মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। নারী ভোটারের নারীর কাছে মুখ খুললে পর্দা ভঙ্গ হবে না বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। ইসিসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কোনো নারী যদি মহিলা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, সেক্ষেত্রে তাকে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ভোট না দিলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। ফলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তাই এবার ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে চেহারা ও ছবি মিলিয়েই।

আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী চিন্তাবিদরাও ইসির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে মুখ দেখানো আইন ও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা আছে, সেখানে নারীর পর্দা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের ওপরই বর্তায়। ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামে জায়েজ। তবে যেখানে বিকল্প আছে— সেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই—সেটিই গ্রহণ করা উত্তম।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকেন এবং কোনো নারী মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তার জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নির্বাচন কর্মকর্তার আইনগত দায়িত্ব। তবে আরপিও এবং ভোট পরিচালনা বিধিমালায় ভোটারের মর্যাদা, সম্মান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টিও ইসি আমলে নিচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরপিওতে সরাসরি ‘পর্দা’ শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও নারী ভোটারের সম্মানহানি বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কোনো আচরণ আইনসম্মত নয়। আইনজীবী ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন বলেন, “মুখ না দেখালে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া ভোটার বলা যাবে না। তবে ভোট দিতে চাইলে পরিচয় যাচাই মানতেই হবে। কারণ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এটি শুধু আইনগত নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থেও জরুরি।”