ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন বানচালে ভয়াবহ পরিকল্পনা: ব্যালট পুড়িয়ে ভোট বন্ধের ছক, দেশজুড়ে সতর্কতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে নাশকতার ভয়াবহ আশঙ্কার তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পুড়িয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দুটি শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও নির্বাচন কমিশনে এই আগাম গোয়েন্দা তথ্য পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি সরঞ্জাম যেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেখানে রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রল বোমা ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলার ছক কষা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ক্যাডারদের হাতে গ্রেনেড ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য নির্দিষ্ট ‘হিট স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা সদর পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগেই সারা দেশের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এসব সরঞ্জাম অস্থায়ী স্টোররুমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা দুর্বল নিরাপত্তা থাকলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ‘কঠোর কর্মসূচি’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেনেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা এবং শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ব্যাহত করা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনটির কিছু প্রশিক্ষিত সদস্যকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার রেকি করবে, কেউ বিস্ফোরক বহন করবে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অধীন উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব স্থানের আশপাশে রেকি চালানো, পাহারার সময়সূচি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ চলছে বলে তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে হামলার পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গুদাম ও স্টোররুমে হামলার ছক চূড়ান্ত করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছে সংগঠনটি। রাতে কিংবা ভোরের দিকে নির্বাচনি সরঞ্জাম রাখা গুদাম, উপজেলা নির্বাচন অফিস, স্কুল-কলেজভিত্তিক অস্থায়ী স্টোররুম এবং পরিবহন বহরের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগুন ধরিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সরঞ্জাম ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এতে একদিকে সরঞ্জাম নষ্ট হবে, অন্যদিকে ভোটগ্রহণের সময়সূচি বিঘ্নিত হবে বলে তারা মনে করছে।

এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ গুদাম ও স্টোররুমে বাড়ানো হয়েছে পাহারা। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনের সময় সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার সদস্যদের এসকর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।

একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, “যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

নির্বাচন বানচালে ভয়াবহ পরিকল্পনা: ব্যালট পুড়িয়ে ভোট বন্ধের ছক, দেশজুড়ে সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে নাশকতার ভয়াবহ আশঙ্কার তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পুড়িয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দুটি শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও নির্বাচন কমিশনে এই আগাম গোয়েন্দা তথ্য পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি সরঞ্জাম যেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেখানে রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রল বোমা ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলার ছক কষা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ক্যাডারদের হাতে গ্রেনেড ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য নির্দিষ্ট ‘হিট স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা সদর পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগেই সারা দেশের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এসব সরঞ্জাম অস্থায়ী স্টোররুমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা দুর্বল নিরাপত্তা থাকলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ‘কঠোর কর্মসূচি’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেনেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা এবং শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ব্যাহত করা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনটির কিছু প্রশিক্ষিত সদস্যকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার রেকি করবে, কেউ বিস্ফোরক বহন করবে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অধীন উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব স্থানের আশপাশে রেকি চালানো, পাহারার সময়সূচি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ চলছে বলে তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে হামলার পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গুদাম ও স্টোররুমে হামলার ছক চূড়ান্ত করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছে সংগঠনটি। রাতে কিংবা ভোরের দিকে নির্বাচনি সরঞ্জাম রাখা গুদাম, উপজেলা নির্বাচন অফিস, স্কুল-কলেজভিত্তিক অস্থায়ী স্টোররুম এবং পরিবহন বহরের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগুন ধরিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সরঞ্জাম ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এতে একদিকে সরঞ্জাম নষ্ট হবে, অন্যদিকে ভোটগ্রহণের সময়সূচি বিঘ্নিত হবে বলে তারা মনে করছে।

এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ গুদাম ও স্টোররুমে বাড়ানো হয়েছে পাহারা। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনের সময় সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার সদস্যদের এসকর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।

একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, “যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।”