ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

নৌবাহিনীর বহরে অত্যাধুনিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’: সমুদ্র গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণা, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল (রবিবার) বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে সরকার-টু-সরকার (G2G) পদ্ধতির আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামাদি বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এটি উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। এতে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারসহ অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ যন্ত্রপাতি সংযোজিত রয়েছে। গভীর সমুদ্র জরিপ, সীবেড ম্যাপিং, ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ এবং নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়াও, এতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক এবং আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা বিদ্যমান।

নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতকরণে ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (IHO) কর্তৃক প্রণীত নতুন জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে এই জাহাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে এর সংযোজন হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। এটি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমে মূল্যবান সহায়তা দেবে। এছাড়াও, গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাকাত নিয়ে বিএনপি নেত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য: হেফাজতে ইসলামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

নৌবাহিনীর বহরে অত্যাধুনিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’: সমুদ্র গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণা, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল (রবিবার) বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে সরকার-টু-সরকার (G2G) পদ্ধতির আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামাদি বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এটি উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। এতে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারসহ অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ যন্ত্রপাতি সংযোজিত রয়েছে। গভীর সমুদ্র জরিপ, সীবেড ম্যাপিং, ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ এবং নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়াও, এতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক এবং আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা বিদ্যমান।

নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতকরণে ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (IHO) কর্তৃক প্রণীত নতুন জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে এই জাহাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে এর সংযোজন হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। এটি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমে মূল্যবান সহায়তা দেবে। এছাড়াও, গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।