চলতি অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তার বিপরীতে দেশের মূল্যস্ফীতির হার টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী। সবশেষ গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে এই হার; জানুয়ারিতে তা দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে, যা গত বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের ৮.৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮.৫৮ শতাংশ, যা আগের মাসের চেয়ে ০.০৯ শতাংশ বেশি। গত সেপ্টেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.১৭ শতাংশ, যা নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৮.২৯ শতাংশে। জানুয়ারির এই হার নির্দেশ করে, গত বছরের জানুয়ারিতে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা কিনতে ভোক্তাকে ১০৮ টাকা ৫৮ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির এই অস্থিরতা খাদ্য খাতেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ০.৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭.৭১ শতাংশ। তবে এক বছর আগের জানুয়ারিতে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০.৭২ শতাংশ। অন্যদিকে, সামগ্রিক খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। ডিসেম্বর মাসের ৯.১৩ শতাংশ থেকে কমে জানুয়ারিতে তা দাঁড়িয়েছে ৮.৮১ শতাংশে, অর্থাৎ কমেছে ০.৩২ শতাংশ।
গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। জানুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ০.১৫ শতাংশ বেড়ে ৮.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.১৮ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ০.০২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮.৫৭ শতাংশ। শহরের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৬১ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮.৫৪ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার যেখানে ৮.৫৮ শতাংশ, সেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮.০৮ শতাংশ। গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশের জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) ছিল ৮.০৪ শতাংশ, যা তার আগের অক্টোবর মাসে ছিল ৮.০১ শতাংশ। এর অর্থ হলো, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, তাদের আয় সেই হারে বাড়ছে না, ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।
দেশের ৬৪ জেলা থেকে সংগৃহীত মজুরি সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং এই মজুরি হার সূচক নির্ধারণ করে থাকে। পণ্য ও সেবার মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে বিবিএস নিয়মিতভাবে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
রিপোর্টারের নাম 























