একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণের অধিকারকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে আটক থাকা এই ৩৯ জন উচ্চপদস্থ ভিআইপি বন্দি গতকাল তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং কারা বিধি মেনে এই বিশেষ ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কারা সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরেই অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্দিরা সারিবদ্ধভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কারা সূত্রে আরও জানা যায়, ভোটদানকারী ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তারা বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।
এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এবং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ, এমনকি যারা আইনের আওতায় আটক রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
রিপোর্টারের নাম 






















