ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে টয়োটা বাংলাদেশের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আদালতে তলব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সহ তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আগামী ৫ মার্চ তাদের সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

যাদের তলব করা হয়েছে, তারা হলেন টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালয়েশিয়ার নাগরিক প্রেমিত সিং, টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার নাভানা লিমিটেড। তারা টয়োটা ব্র্যান্ডের একক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তবে অভিযুক্তরা এই একক ডিস্ট্রিবিউটরশিপ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার পরিস্থিতি এবং কর্মদক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে নাভানার সঙ্গে টয়োটার ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।

এদিকে, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের অর্ডার করা গাড়ির উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেন। একইসঙ্গে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করে নাভানার স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে নাভানা লিমিটেড শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়েনি, বরং প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এছাড়া, কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকিতেও পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারিদের হামলা: ডিবি সদস্যসহ আহত ৭, নগদ ৪৬ লাখ টাকাসহ আটক ১৫

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে টয়োটা বাংলাদেশের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আদালতে তলব

আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সহ তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আগামী ৫ মার্চ তাদের সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

যাদের তলব করা হয়েছে, তারা হলেন টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালয়েশিয়ার নাগরিক প্রেমিত সিং, টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার নাভানা লিমিটেড। তারা টয়োটা ব্র্যান্ডের একক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তবে অভিযুক্তরা এই একক ডিস্ট্রিবিউটরশিপ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার পরিস্থিতি এবং কর্মদক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে নাভানার সঙ্গে টয়োটার ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।

এদিকে, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের অর্ডার করা গাড়ির উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেন। একইসঙ্গে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করে নাভানার স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে নাভানা লিমিটেড শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়েনি, বরং প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এছাড়া, কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকিতেও পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।