বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লার’ বিজয় প্রতিহত করতে একটি মহল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই চক্রান্তের অংশ হিসেবেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানো হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বোমা তৈরি ও অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভোট চুরি বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা দখলের আগেই একটি রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে, তাদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সভা-সমাবেশে হামলা চালানো হচ্ছে এবং এমনকি পীর-মাশায়েখদেরও হত্যা করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘোষণা দেন যে, যদি ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হয়, তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, দলীয়করণ বন্ধ করবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই ভোটাধিকার অর্জনের পথ সহজ ছিল না। সহস্র মানুষের আত্মত্যাগ, গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এই অধিকার আদায় করা হয়েছে। তিনি ২০০৯ সালের আগের ‘লগি-বৈঠা’ আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রাম-প্রতিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে, বাংলাদেশ আজ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে দিনের ভোট রাতে দেওয়া এবং মৃত ভোটারদের দিয়ে ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবার প্রশাসন জনগণের পাশে দাঁড়াবে এবং কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এসপি, ডিসি, ওসি বা কনস্টেবলের জন্য যেন কোনো ‘খাম’ রাখতে না হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি অবৈধ অর্থের প্রভাবের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ টাকার কাছে নতি স্বীকার করবে, তাদের নিজ সন্তান, বাবা-মা এবং দেশের মানুষের কথা স্মরণ রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, যদি আবারও ব্যালট বাক্স ভর্তি করে পাতানো নির্বাচন করার চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণের যে গণবিদ্রোহ সৃষ্টি হবে, তা কোনো কামান, বুলেট বা বিদেশি শক্তি দিয়েও দমন করা সম্ভব হবে না।
এনসিপির এই নেতা গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ টেলিভিশন ও গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করে ‘মিডিয়া মাফিয়াগিরি’ শুরু করেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং তাদের কাজ হলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে কথা না বলায় জনরোষের শিকার হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।
ভোটের পবিত্রতার ওপর জোর দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোট একটি আমানত। টাকার বিনিময়ে ভোট দিলে পাঁচ বছর গোলামি করতে হবে, আর বিনা পয়সায় ভোট দিলে পাঁচ বছর বিনা পয়সায় সেবা পাওয়া যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও গোপনে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চাইছে। তিনি বলেন, তারা কেবল ‘হাসিনার পরিবর্তন’ চাননি, বরং ‘হাসিনার ব্যবস্থারও পরিবর্তন’ চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, একটি দল ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যটি বুলেটের। এই বুলেট বিপ্লবের জবাব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
উপজেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান।
রিপোর্টারের নাম 

























