ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বোমা মামলার পলাতক আসামি বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায়: শরীয়তপুরে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক, তাকে সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে দেখা গেছে। পলাতক এই আসামির হাতে বিএনপি প্রার্থীর ফুলের মালা গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকার একটি বসতঘরে ককটেল তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

ওই মামলায় বিলাসপুরের মুলাই বেপারি কান্দি গ্রামের গনি বেপারীর ছেলে নুরুল ইসলাম বেপারীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। তার দুই ভাই ছিদম বেপারী ও ইদ্রিস বেপারী এবং বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি। পুলিশ পরবর্তীতে ছিদম বেপারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করলেও, প্রধান আসামি নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিস্ফোরণের ঘটনার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি দুর্বল হওয়ায় নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য পলাতক আসামিরা মাঝেমধ্যেই এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার, হুমকি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের আনুকূল্যে তারা নির্বাচনী কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাঈদ আহমেদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অংশ নেন পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম বেপারী। এ সময় তিনি বিএনপি প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। ঘটনার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম বেপারী বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদের গলায় মালা পরাচ্ছেন। সে সময় জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম বেপারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৭টিসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিলাসপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নুরুল ইসলামের বড় ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এবং তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে তৎপর হলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে মালা পরিয়েছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা দেখেছি। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বোমা মামলার প্রধান আসামির এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি ঘিরে জাজিরা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে মশার তীব্র উপদ্রব: জনজীবন অতিষ্ঠ, বাড়ছে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি

বোমা মামলার পলাতক আসামি বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায়: শরীয়তপুরে তোলপাড়

আপডেট সময় : ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক, তাকে সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে দেখা গেছে। পলাতক এই আসামির হাতে বিএনপি প্রার্থীর ফুলের মালা গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকার একটি বসতঘরে ককটেল তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

ওই মামলায় বিলাসপুরের মুলাই বেপারি কান্দি গ্রামের গনি বেপারীর ছেলে নুরুল ইসলাম বেপারীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। তার দুই ভাই ছিদম বেপারী ও ইদ্রিস বেপারী এবং বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি। পুলিশ পরবর্তীতে ছিদম বেপারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করলেও, প্রধান আসামি নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিস্ফোরণের ঘটনার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি দুর্বল হওয়ায় নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য পলাতক আসামিরা মাঝেমধ্যেই এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার, হুমকি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের আনুকূল্যে তারা নির্বাচনী কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাঈদ আহমেদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অংশ নেন পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম বেপারী। এ সময় তিনি বিএনপি প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। ঘটনার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম বেপারী বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদের গলায় মালা পরাচ্ছেন। সে সময় জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম বেপারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৭টিসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিলাসপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নুরুল ইসলামের বড় ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এবং তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে তৎপর হলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে মালা পরিয়েছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা দেখেছি। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বোমা মামলার প্রধান আসামির এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি ঘিরে জাজিরা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।