ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডায় মানবাধিকার উদ্বেগ: পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ফ্লোরিডা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে ফুটবলীয় প্রস্তুতি নয়, অঙ্গরাজ্যটির বর্তমান অভিবাসন নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একাধিক নাগরিক অধিকার সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্লোরিডা ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের আশঙ্কা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বর্ণভিত্তিক যাচাইয়ের কারণে ফুটবলপ্রেমীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।

বিশ্বকাপের টিকিট, ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং যখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মূল ভাবনা, ঠিক তখনই ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশন এবং আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির মতো প্রখ্যাত সংগঠনগুলো ফ্লোরিডা সফরের বিষয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাদের দাবি, অঙ্গরাজ্যটির বর্তমান প্রশাসনের অধীনে প্রণীত কঠোর অভিবাসন আইন এবং পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য এক অনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করেছে।

ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক টেসসা পেটিট সরাসরি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “ফ্লোরিডা এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যে কেউ হয়রানির শিকার হতে পারেন।” সংগঠনগুলোর অভিযোগ, চেহারা, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে মানুষকে থামানো বা জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আসা দর্শকদের জন্য এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে তারা মনে করছেন। তাই বৈধ ভিসা থাকলেও সব সময় পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা আরও জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসন আইন এবং ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের অপব্যবহার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তারা মনে করছেন।

তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আইন মেনে চললে দর্শনার্থীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক আসরের আগে এই ধরনের সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব পায় এবং ফিফা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অন্য পেশায় যুক্ত হতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক: শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডায় মানবাধিকার উদ্বেগ: পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৮:০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ফ্লোরিডা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে ফুটবলীয় প্রস্তুতি নয়, অঙ্গরাজ্যটির বর্তমান অভিবাসন নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একাধিক নাগরিক অধিকার সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্লোরিডা ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের আশঙ্কা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বর্ণভিত্তিক যাচাইয়ের কারণে ফুটবলপ্রেমীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।

বিশ্বকাপের টিকিট, ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং যখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মূল ভাবনা, ঠিক তখনই ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশন এবং আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির মতো প্রখ্যাত সংগঠনগুলো ফ্লোরিডা সফরের বিষয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাদের দাবি, অঙ্গরাজ্যটির বর্তমান প্রশাসনের অধীনে প্রণীত কঠোর অভিবাসন আইন এবং পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য এক অনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করেছে।

ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক টেসসা পেটিট সরাসরি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “ফ্লোরিডা এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যে কেউ হয়রানির শিকার হতে পারেন।” সংগঠনগুলোর অভিযোগ, চেহারা, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে মানুষকে থামানো বা জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আসা দর্শকদের জন্য এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে তারা মনে করছেন। তাই বৈধ ভিসা থাকলেও সব সময় পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা আরও জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসন আইন এবং ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের অপব্যবহার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তারা মনে করছেন।

তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আইন মেনে চললে দর্শনার্থীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক আসরের আগে এই ধরনের সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব পায় এবং ফিফা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা।