বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজারে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। শনিবার কুলাউড়া নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনকে ‘পরিবর্তনের ভোট’ এবং ‘গণভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জনতার সমর্থন চেয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর জন্মস্থান মৌলভীবাজারকে চায়ের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চা শ্রমিকদের ভুলে যাওয়া মানে নিজেকে ভুলে যাওয়া। তিনি তাদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর মেয়ে রাণী হবে। আমরা চাই, একজন শ্রমিক ভাই বা বোনের মেধাবী সন্তানও যেন মেধার বিকাশের সুযোগ পেয়ে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ী, সমতল, নিম্নাঞ্চলসহ সকল জাতি, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এক শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে আর আরেক শ্রেণি ভুখা থাকবে, এমন পরিস্থিতি তাঁরা হতে দেবেন না বলেও জানান জামায়াত আমির।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট। এটিকে ‘২৪ এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ভোটের সাথে গণভোট ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ পাওয়া যাবে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। তাঁর মতে, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী এবং ‘না’ মানে গোলামী। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আজাদী না গোলামী?” জবাবে জনতা সমস্বরে “আজাদী” বলে ওঠে।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলী’র সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী’র পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ।
রিপোর্টারের নাম 

























