জিম্বাবুয়ের হারারেতে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে যুব বিশ্বকাপের ষোড়শ আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। এই জয়ের মধ্য দিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো এই টুর্নামেন্টের মুকুট পরলো ভারতের যুবারা। ব্যাট-বলের দারুণ সমন্বয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা।
ফাইনালে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান ভারতের ১৪ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার বৈভাব সূর্যবংশী। তার অবিশ্বাস্য ১৭৫ রানের ইনিংসটি আসে মাত্র ৮০ বলে, যা ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কায় সাজানো ছিল। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে, যিনি ৫১ বলে ৫৩ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের অসাধারণ নৈপুণ্যে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৪১১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা যুব বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
জবাবে, বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন বেন ডকিন্স ও ক্যালেব ফ্যালকনার। ওপেনার ডকিন্স ৫৬ বলে ৬৬ রান করে দলের পক্ষে কিছুটা লড়াই করেন। এরপর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ফ্যালকনার খেলেন এক ঝড়ো সেঞ্চুরি, মাত্র ৬৭ বলে ১১৫ রান করেন তিনি। তবে তাদের এই অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। শেষ উইকেট হিসেবে কানিস্ক চৌহানের ইয়র্কার ডেলিভারিতে ক্যালেব ফ্যালকনারের উইকেট পড়তেই ভারতীয় শিবিরে বিজয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৭২২ রান সংগ্রহ করে, যা যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন এক রেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে ৭১৪ রান ছিল সর্বোচ্চ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভারতের বৈভাব সূর্যবংশী। তার ১৭৫ রানের ইনিংসটি বয়সভিত্তিক বা সিনিয়র, পুরুষ বা নারী—যেকোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। পুরো টুর্নামেন্টে সাত ইনিংসে ৪৯৯ রান করে এই বিস্ময়-বালক জিতেছেন ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কারও। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালের পর আর শিরোপা না জিততে পারা ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও একবার বাড়ল।
রিপোর্টারের নাম 

























