আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটছে না। টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পাকিস্তানকে খেলার অনুরোধ জানিয়েছিল ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা (এসএলসি)। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে খেলার বিষয়টি এখন আর বোর্ডের একক সিদ্ধান্তের ওপর নেই, বরং এটি সম্পূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়।
বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মহারণ মানেই বাণিজ্যের এক বিশাল ক্ষেত্র। এই ম্যাচটি মাঠে না গড়ালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বিগ-ম্যাচে মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি। ম্যাচটি বাতিল হলে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে লোকসান গুনবে।
আর্থিক এই বিপর্যয়ের আঁচ থেকে বাদ যাবে না বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কাও। ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে যখন দেশটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন পর্যটন খাতের প্রসারে এই ম্যাচটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে, তবে তাদের পর্যটন শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এই আশঙ্কা থেকেই পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল এসএলসি।
তবে শ্রীলঙ্কার এই আরজিতে সাড়া দিতে পারছে না পাকিস্তান। পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শ্রীলঙ্কার চিঠিটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করলেও সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এর আগে আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নানাভাবে পাকিস্তানকে রাজি করানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। আইনি জটিলতা বা সম্প্রচার স্বত্ব বাতিলের হুমকির মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে পাকিস্তান।
সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে এখন চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপের জৌলুস ও কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ।
রিপোর্টারের নাম 

























