আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক সভাপতি ইহসান মানি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান ক্রিকেটীয় উত্তেজনার অবসান ঘটাতে বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডন থেকে ‘ডন’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জয় শাহর কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি রোধে তাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানির মতে, পাকিস্তান সরকারকে তাদের বয়কট সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য রাজি করাতে জয় শাহর উচিত ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফর করা। পাশাপাশি, পাকিস্তানের অভিযোগগুলো মনোযোগ সহকারে শোনাও অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, আইসিসি পিসিবির সঙ্গে আলোচনার জন্য ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মানি বলেন, খাজা একজন অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশ সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি হওয়ায় এই সংবেদনশীল ইস্যুটি সামাল দেওয়ার জন্য তিনি উপযুক্ত নন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আইসিসি চেয়ারম্যানেরই সরাসরি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
মানির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যদি কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে তার পেছনে অবশ্যই শক্তিশালী কারণ রয়েছে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে বিষয়টি আইসিসির সালিশি কমিটিতে গেলে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের মামলায় কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে, কারণ হাইব্রিড মডেলে আইসিসি ভারতের বদলে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দিয়েছিল। তবে একটি দক্ষ আইনি দল থাকলে বিষয়টি কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।”
তবে, আইসিসিতে ভারতের প্রভাবের কারণে সালিশি কমিটিতেও ভারতের পক্ষেই রায় যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেমনটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল। মানি আরও বলেন, “যদি আইসিসি আবারও পাকিস্তানের প্রতি ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয় এবং ভারতের মন রক্ষা করে, তাহলে আমাদের সুইজারল্যান্ডের বিশ্ব সালিশি আদালতে যাওয়ার অধিকার আছে। সেখানে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি, কারণ আইসিসির কার্যক্রমে রাজনীতির সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে অনেক ঘটনা রয়েছে।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হলে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে মানি বলেন, এই ম্যাচটি আইসিসির জন্য বিপুল রাজস্বের উৎস হলেও, সেই আয়ের মাত্র ৫.৭৫ শতাংশ পায় পাকিস্তান, যেখানে ভারতের অংশ ৩৮.৫ শতাংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইসিসির রাজনীতির অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের এখনই লড়াইয়ে নামার সময়। এশিয়া কাপে পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারত ক্রিকেটের ভদ্রতা নষ্ট করলেও তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আইসিসি। এমনকি এসিসি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি পাকিস্তানি হওয়ায় ভারতীয় দল এশিয়া কাপের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালেও আইসিসি নীরব ছিল।”
মানির মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট পিসিবি ও আইসিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত অংশগ্রহণ চুক্তির লঙ্ঘন হতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, “এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তান বাধ্য হয়েছে বিসিসিআইয়ের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে।”
রিপোর্টারের নাম 

























