ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ ফেরানোর অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, তবে দেশের সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক অধ্যায়ে এই বিষয়টির উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এটি ছাড়াও আরও একাধিক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অগণতান্ত্রিকভাবে করা সংশোধনীগুলো বাতিল, দলের ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, উচ্চকক্ষে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এবার নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সময়, দেশ পুনর্গঠনের সময়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র তৈরিতে বিএনপি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ নামে অভিহিত করেছেন।

তাঁর মতে, দলের গৃহীত কর্মপরিকল্পনা দেশের ৪ কোটিরও বেশি তরুণ, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিকের জন্য দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে। প্রতিটি সেক্টরের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যার মূল স্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারের ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে দলটি। পাঁচ ভাগে বিভক্ত এই ইশতেহারে মোট ৫১টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারটি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ ও জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে প্রণীত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ ফেরানোর অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৫:১৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, তবে দেশের সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক অধ্যায়ে এই বিষয়টির উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এটি ছাড়াও আরও একাধিক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অগণতান্ত্রিকভাবে করা সংশোধনীগুলো বাতিল, দলের ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, উচ্চকক্ষে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এবার নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সময়, দেশ পুনর্গঠনের সময়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র তৈরিতে বিএনপি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ নামে অভিহিত করেছেন।

তাঁর মতে, দলের গৃহীত কর্মপরিকল্পনা দেশের ৪ কোটিরও বেশি তরুণ, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিকের জন্য দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে। প্রতিটি সেক্টরের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যার মূল স্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারের ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে দলটি। পাঁচ ভাগে বিভক্ত এই ইশতেহারে মোট ৫১টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারটি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ ও জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে প্রণীত হয়েছে।