বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিচিত্র ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে মুখ ও ভাষার পরিবর্তন হলেও মূল আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের ঘিরে আবার সুযোগসন্ধানীদের ভিড় বাড়ছে, অন্যদিকে যারা একসময় সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে যাচ্ছেন।
অতীতে দেখা গেছে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নেতাদের শেখ হাসিনার ছবির দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতো, যার অর্থ ছিল অন্যায়ের বিপরীতে ন্যায় এবং দমননীতির বিপরীতে গণতন্ত্র। কিন্তু আজ সেই ধারাটিই উল্টোভাবে ফিরে আসছে। যারা একসময় স্বৈরাচারের সমালোচনা করতেন, তাদের অনেকের ভাষাও এখন একই ধরনের শোনায়, যদিও পতাকা ও দল ভিন্ন। অবাক হওয়ার বিষয় হলো, যারা একসময় ভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন, তারাও এখন একই সুরে কথা বলছেন।
গত দেড় দশকে বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়ার একটি বড় অংশ একদলীয় প্রভাবের মধ্যে ছিল, যেখানে মতপ্রকাশ সংকুচিত হয়েছিল এবং সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হতো। ক্ষমতার পালাবদলের পর দৃশ্যপট বদলানোর কথা থাকলেও, বাস্তবে কেবল আনুগত্যের দিক পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্রের নয়।
এ কারণেই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। যারা সত্যিকার অর্থে আন্দোলন করেছেন, মাঠে ছিলেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা এখন কোণঠাসা। তাদের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম সবকিছুই যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। এই অবহেলা কেবল অন্যায় নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও আত্মঘাতী। রাজনীতির তত্ত্ববিদরা বলেন, ‘দলের শক্তি তার শিকড়ে।’ হার্ভার্ডের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন, যখন কোনো দল তার তৃণমূল কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে, তখন দ্রুত জনভিত্তি হারায়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গবেষকরা এটিকে ‘এলিট ক্যাপচার’ হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে ক্ষমতা সুবিধাভোগী একটি শ্রেণির হাতে চলে যায়।
বাংলাদেশে এখন এই চিত্র স্পষ্ট। সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল, ২০২৬ পাসের সময় যে বিতর্ক হয়েছে, তা এই সংকটকে আরও উন্মোচিত করেছে। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্ন ছিল—‘শেখ হাসিনা খারাপ, কিন্তু তার নীতি ভালো কীভাবে?’ এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, যদি নীতিই অপরিবর্তিত থাকে, তবে পরিবর্তন কোথায়?
রিপোর্টারের নাম 





















