মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা রক্ষার এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে দলটি শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬-এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এই শহীদদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি স্থাপনার নামকরণ এবং তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, আন্দোলনে আহত ও পঙ্গু হওয়া ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে, তাদের সম্মানজনক জীবিকা অর্জনে পথ দেখাবে এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে। এছাড়া, যোগ্যতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে।
ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই রক্তার্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করারও অঙ্গীকার করা হয়।
বিএনপি দাবি করেছে যে, বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























