মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা, এবং গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীরদের স্মরণে সরকারি স্থাপনার নামকরণসহ তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান এই অঙ্গীকারনামা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংশোধন করে শিক্ষাব্যবস্থায় তা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য কল্যাণমূলক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং এই ভাতার ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও অঙ্গীকার করা হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামে নিজ নিজ এলাকায় সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি, এই আন্দোলনগুলোতে পঙ্গুত্ব বরণকারী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি, সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে অঙ্গীকারটি করা হয়েছে তা হলো, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের দায়েরকৃত মামলার বিচার দ্রুততর করা, তাদের সম্মানজনক জীবিকা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবে। এছাড়াও, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























