আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ পুনর্গঠন ও একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের এই ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নিজের এই রূপরেখাকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে দেশের বিশাল তরুণ সমাজ ও নারীশক্তির উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৪ কোটিরও বেশি তরুণ এবং মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীর জন্য দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এছাড়া কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিটি খাতে আলাদা আলাদা সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং এর মূল প্রত্যয় হলো ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণীত এই ইশতেহারকে পাঁচটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি বিশেষ অঙ্গীকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই ইশতেহারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে এই ৫১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 

























