ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা-৮ গড়ার অঙ্গীকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষিত ৮ দফা ইশতেহারে জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের শুরুতেই তিনি শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সংসদে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান কাজ।

নিরাপদ ঢাকা-৮ ও অপরাধ দমন
এলাকাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন এই প্রার্থী। এর মাধ্যমে নাগরিকরা পরিচয় গোপন রেখে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক শিক্ষা
স্বাস্থ্যখাতকে ব্যবসার পরিবর্তে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ এলাকার সব সরকারি হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান ও ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

কর্মসংস্থান ও তরুণদের উন্নয়ন
বেকারত্ব দূর করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠনের কথা জানান নাসীরুদ্দীন। বিশেষ করে পল্টনে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তার ইশতেহারে, যেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্বাসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নাগরিক ভোগান্তি নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন
রাজধানীর যানজট নিরসনে স্কুল ও অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা এবং ভিআইপি প্রটোকলের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি বন্ধের দাবি জানান তিনি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট দূরীকরণের পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইশতেহারের শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, ক্ষমতাকে গুটিকয়েক মানুষের হাত থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। ভোটারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষায় তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও হটলাইন চালুর অঙ্গীকার করেন।

একটি মানবিক, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা গড়ে তুলতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা-৮ গড়ার অঙ্গীকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষিত ৮ দফা ইশতেহারে জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের শুরুতেই তিনি শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সংসদে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান কাজ।

নিরাপদ ঢাকা-৮ ও অপরাধ দমন
এলাকাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন এই প্রার্থী। এর মাধ্যমে নাগরিকরা পরিচয় গোপন রেখে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক শিক্ষা
স্বাস্থ্যখাতকে ব্যবসার পরিবর্তে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ এলাকার সব সরকারি হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান ও ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

কর্মসংস্থান ও তরুণদের উন্নয়ন
বেকারত্ব দূর করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠনের কথা জানান নাসীরুদ্দীন। বিশেষ করে পল্টনে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তার ইশতেহারে, যেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্বাসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নাগরিক ভোগান্তি নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন
রাজধানীর যানজট নিরসনে স্কুল ও অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা এবং ভিআইপি প্রটোকলের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি বন্ধের দাবি জানান তিনি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট দূরীকরণের পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইশতেহারের শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, ক্ষমতাকে গুটিকয়েক মানুষের হাত থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। ভোটারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষায় তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও হটলাইন চালুর অঙ্গীকার করেন।

একটি মানবিক, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা গড়ে তুলতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।