ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণা জামায়াত আমিরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের সম্মানী ও মর্যাদা অন্য সবার মতো সাধারণ হওয়া উচিত নয়। জননিরাপত্তায় তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে যে ‘মামলা বাণিজ্য’ চলছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে এনে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বেকারদের নামমাত্র ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না। বরং তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে।”

বক্তব্যে ঝালকাঠির সন্তান ওসমান হাদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে অবশ্যই হাদি গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘দিনবদলের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ যদি জনগণের ভোট কেড়ে নিতে চায়, তবে তা সাহসের সাথে রুখে দিতে হবে। এ নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে বা মামলা হলে, নির্দেশদাতা হিসেবে তিনি নিজের নামেই সেই মামলার দায়ভার গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ডা. ফয়জুল হক এবং ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহামুদা মিতু, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ জামাল হোসেন এবং এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্নাসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণা জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের সম্মানী ও মর্যাদা অন্য সবার মতো সাধারণ হওয়া উচিত নয়। জননিরাপত্তায় তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে যে ‘মামলা বাণিজ্য’ চলছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে এনে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বেকারদের নামমাত্র ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না। বরং তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে।”

বক্তব্যে ঝালকাঠির সন্তান ওসমান হাদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে অবশ্যই হাদি গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘দিনবদলের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ যদি জনগণের ভোট কেড়ে নিতে চায়, তবে তা সাহসের সাথে রুখে দিতে হবে। এ নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে বা মামলা হলে, নির্দেশদাতা হিসেবে তিনি নিজের নামেই সেই মামলার দায়ভার গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ডা. ফয়জুল হক এবং ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহামুদা মিতু, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ জামাল হোসেন এবং এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্নাসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।