রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আগামী পাঁচ বছরে ৫১টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঘোষিত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অংশে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগ ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারে। এছাড়া শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক কল্যাণ এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ইশতেহারের তৃতীয় ভাগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং ‘সুনীল অর্থনীতি’ বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে ইশতেহারের চতুর্থ ভাগে চট্টগ্রামকে দেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চল, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের অনগ্রসরতা দূর করতে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আধুনিক নগরায়ণ, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং ঢাকাকে একটি নিরাপদ ও টেকসই মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
ইশতেহারের শেষাংশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক নৈতিকতা পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বিএনপি।
রিপোর্টারের নাম 

























