ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাক-ভারত মহারণ বয়কটের ঘোষণা: ভারত ও আইসিসির জন্য বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা মার্ক বুচারের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণায় বিশ্ব ক্রিকেটে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মার্ক বুচার মনে করেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা কেবল ভারতের জন্যই নয়, বরং আইসিসির জন্যও এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং লাভজনক লড়াই হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। এই ম্যাচকে ঘিরে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের বিপুল অংকের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকে। মার্ক বুচার এক আলোচনায় মন্তব্য করেছেন যে, এই ম্যাচটি না হওয়া মানে বৈশ্বিক ক্রিকেটের বাজার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামা।

বুচারের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত বর্তমানে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ। অনেক ক্ষেত্রেই আইসিসির সিদ্ধান্তগুলো ভারতের অনুকূলে যায় বলে তিনি মনে করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এর ফলে পাকিস্তানসহ অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলোকেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। বুচার মনে করেন, বারবার ভারতের সুবিধামতো সূচি পরিবর্তন প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, পাকিস্তান পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে তারা টুর্নামেন্টে থাকলেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। মূলত মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আইসিসির বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। বুচারের ভাষায়, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ক্ষেত্রে হাইব্রিড মডেল বা বিকল্প ভেন্যুর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি সেই নমনীয়তা দেখায়নি, যা পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানকে সবসময় একই গ্রুপে রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্ক বুচার। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং বাণিজ্যিক মুনাফার কথা চিন্তা করে ওপর মহল থেকে এটি আগেভাগেই নির্ধারিত থাকে। যেখানে অন্য দলগুলোকে ড্র বা কোয়ালিফাইং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রুপে আসতে হয়, সেখানে ভারত-পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখাটা এখন নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে।

রাজনীতি ও কূটনীতির মারপ্যাঁচে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোই ছিল দুই দেশের লড়াই দেখার একমাত্র মাধ্যম। এখন পাকিস্তানের এই বয়কটের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আইসিসি এই সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন আইসিসির পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মাসেই ৯ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ঘন ঘন ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, প্রস্তুতিতে জোরের তাগিদ

পাক-ভারত মহারণ বয়কটের ঘোষণা: ভারত ও আইসিসির জন্য বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা মার্ক বুচারের

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণায় বিশ্ব ক্রিকেটে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মার্ক বুচার মনে করেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা কেবল ভারতের জন্যই নয়, বরং আইসিসির জন্যও এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং লাভজনক লড়াই হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। এই ম্যাচকে ঘিরে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের বিপুল অংকের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকে। মার্ক বুচার এক আলোচনায় মন্তব্য করেছেন যে, এই ম্যাচটি না হওয়া মানে বৈশ্বিক ক্রিকেটের বাজার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামা।

বুচারের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত বর্তমানে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ। অনেক ক্ষেত্রেই আইসিসির সিদ্ধান্তগুলো ভারতের অনুকূলে যায় বলে তিনি মনে করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এর ফলে পাকিস্তানসহ অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলোকেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। বুচার মনে করেন, বারবার ভারতের সুবিধামতো সূচি পরিবর্তন প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, পাকিস্তান পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে তারা টুর্নামেন্টে থাকলেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। মূলত মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আইসিসির বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। বুচারের ভাষায়, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ক্ষেত্রে হাইব্রিড মডেল বা বিকল্প ভেন্যুর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি সেই নমনীয়তা দেখায়নি, যা পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানকে সবসময় একই গ্রুপে রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্ক বুচার। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং বাণিজ্যিক মুনাফার কথা চিন্তা করে ওপর মহল থেকে এটি আগেভাগেই নির্ধারিত থাকে। যেখানে অন্য দলগুলোকে ড্র বা কোয়ালিফাইং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রুপে আসতে হয়, সেখানে ভারত-পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখাটা এখন নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে।

রাজনীতি ও কূটনীতির মারপ্যাঁচে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোই ছিল দুই দেশের লড়াই দেখার একমাত্র মাধ্যম। এখন পাকিস্তানের এই বয়কটের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আইসিসি এই সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন আইসিসির পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।